ভোটের ময়দানে উত্তাপ বাড়িয়ে নন্দীগ্রামে গ্রেফতার শেখ সুফিয়ানের জামাই হাবিবুল!

নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড় নিয়ে এলো তৃণমূল নেতা শেখ হাবিবুল রহমানের গ্রেফতারি। গতকাল রাতে মহম্মদপুর পঞ্চায়েত প্রধান তথা বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা শেখ সুফিয়ানের জামাই হাবিবুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। হাইপ্রোফাইল এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে ভোটমুখী মেদিনীপুরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
টাকা বিলি ও হুমকির অভিযোগ
বিজেপির পক্ষ থেকে সরাসরি অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, হাবিবুল রহমান ভোটারদের প্রভাবিত করতে সক্রিয়ভাবে এলাকায় টাকা বিলি করছিলেন। একইসঙ্গে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকির অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করতেই শাসকদলের এই নেতা প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছিলেন।
তৃণমূলের পাল্টা দাবি ও রাজনৈতিক প্রভাব
গ্রেফতারির এই ঘটনাকে পুরোপুরি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখছে তৃণমূল কংগ্রেস। শাসকদলের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, নির্বাচনের আগে মনোবল ভাঙতে মিথ্যা অভিযোগে তাঁদের নেতাকে ফাসানো হয়েছে। তবে এই গ্রেফতারি নন্দীগ্রামের তৃণমূল শিবিরে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে সুফিয়ানের পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্য হওয়ায় এর প্রভাব মহম্মদপুরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় পড়তে পারে।
পুলিশি এই তৎপরতা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ফলে স্থানীয় প্রশাসনের ওপর চাপ বেড়েছে। এলাকার ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই গ্রেফতারি ভোটের মেরুকরণে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
এক ঝলকে
- ভোটারদের প্রভাবিত করা ও টাকা বিলির অভিযোগে গ্রেফতার মহম্মদপুর পঞ্চায়েত প্রধান শেখ হাবিবুল রহমান।
- ধৃত নেতা নন্দীগ্রামের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা শেখ সুফিয়ানের জামাই।
- বিজেপির অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল রাতে পুলিশি অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
- তৃণমূল এই ঘটনাকে ভিত্তিহীন এবং ষড়যন্ত্র হিসেবে দাবি করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
