ভোটের ময়দানে চরম অপমান, রাজনীতি থেকে চিরবিদায় নিলেন রাজ চক্রবর্তী

রুপালি পর্দার সফল পরিচালক হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী হলেও রাজনীতির আঙিনায় রাজ চক্রবর্তীর ইনিংস খুব একটা সুখকর হলো না। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে শোচনীয় পরাজয়ের পর রাজনৈতিক জীবন থেকে চিরতরে সন্ন্যাস নেওয়ার ঘোষণা দিলেন এই তারকা-পরিচালক। ভোটের ফলাফল ঘোষণার মাত্র তিন দিনের মাথায় নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে সমাজমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট করেছেন তিনি।
অপমান ও পরাজয়ের গ্লানি
রাজ চক্রবর্তীর এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কেবল নির্বাচনী পরাজয় নয়, বরং গত ৪ মে গণনাকেন্দ্রের বাইরে ঘটে যাওয়া অনভিপ্রেত ঘটনাকে দায়ী করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, ব্যারাকপুরের গণনাকেন্দ্র থেকে বেরোনোর সময় একদল উত্তেজিত জনতা রাজের দিকে কাদা, গোবর এবং জুতো ছুড়ে মারে। একসময় যাঁদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছিলেন, তাঁদের মুখ থেকেই ‘চোর-চোর’ স্লোগান শুনতে হয় বিদায়ী এই বিধায়ককে। এই চরম লাঞ্ছনা ও শারীরিক হেনস্তা যে তাঁর মনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে, তা রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তে স্পষ্ট প্রতিফলিত হয়েছে।
সিনেমায় ফেরার ইঙ্গিত ও আগামীর শুভেচ্ছা
নিজের বার্তায় রাজ জানিয়েছেন, ২০২১ সালে শুরু হওয়া তাঁর রাজনৈতিক অধ্যায় ২০২৬-এ এসে শেষ হলো। তিনি লেখেন, “জীবনে যখনই কোনও দায়িত্ব পেয়েছি, নিষ্ঠা এবং সততার সঙ্গে পালন করেছি। একজন পরিচালক হিসেবে সিনেমার মাধ্যমে মানুষকে আনন্দ দিয়েছি। কখনও জিতেছি, কখনও হেরেছি।” আগামী ৯ মে রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার শপথ নিতে চলেছে। নবনির্বাচিত সরকারকে শুভেচ্ছা জানিয়ে রাজ আশা প্রকাশ করেছেন যে, তাদের হাত ধরে পশ্চিমবঙ্গ উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে।
এখন থেকে নিজেকে পুনরায় চলচ্চিত্র পরিচালনায় পুরোপুরি নিয়োজিত করবেন বলেই মনে করছে বিনোদন মহল। রাজ্যবাসীকে ‘ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন’ বলে বিদায় জানালেও তাঁর এই প্রস্থান রাজ্যের বিনোদন ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
