ভোটের মুখে উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি, যাদবপুর নিয়ে মোদীকে কড়া চিঠি মমতার – এবেলা

ভোটের মুখে উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি, যাদবপুর নিয়ে মোদীকে কড়া চিঠি মমতার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

প্রথম দফার ভোট শেষ হতেই বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে নতুন মাত্রা যোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে একটি খোলা চিঠি লিখে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা রক্ষা এবং কেন্দ্রের ‘বিমাতৃসুলভ’ আচরণের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। নবান্ন থেকে পাঠানো এই চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, যাদবপুরের ছাত্রছাত্রী ও মেধার ওপর কোনো আঘাত সহ্য করা হবে না।

মেধার অপমান ও কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাংশ সুপরিকল্পিতভাবে যাদবপুরের পড়ুয়াদের ‘দেশবিরোধী’ তকমা দিয়ে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছে। ইউজিসি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ স্বায়ত্তশাসনে ক্রমাগত হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। মমতার মতে, যাদবপুর কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি বাংলার প্রগতিশীল চিন্তাধারার প্রতীক। ফলে এই প্রতিষ্ঠানকে আক্রমণ করা মানে গোটা বাংলার সংস্কৃতি ও মেধাকে অপমান করা।

রাজনৈতিক কৌশল ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক মাঝপথে যাদবপুর ইস্যুকে সামনে আনা তৃণমূল নেত্রীর একটি সুচিন্তিত কৌশল। সম্প্রতি বিজেপির বিভিন্ন জনসভা থেকে যাদবপুরের পরিবেশ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য এবং কেন্দ্রীয় অনুদান বন্ধের যে প্রচ্ছন্ন হুমকি দেওয়া হয়েছিল, তাকেই পাল্টা হাতিয়ার করেছেন মমতা। এর মাধ্যমে তিনি কলকাতার শিক্ষিত সমাজ এবং বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের এই বার্তা দিতে চেয়েছেন যে, বাংলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষায় তাঁর সরকার আপসহীন।

এই সংঘাতের ফলে নির্বাচনী লড়াইয়ে শিক্ষা ও সংস্কৃতির আবেগ নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। কেন্দ্রের কড়াকড়ির বিপরীতে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজেকে বাংলার মেধার রক্ষাকর্তা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন, যা আগামী দফার ভোটগুলোতে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে তিনি ফের একবার ‘বহিরাগত বনাম বাঙালি’ আবেগ উসকে দেওয়ার পথ প্রশস্ত করলেন।

এক ঝলকে

  • যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীকে কড়া ভাষায় খোলা চিঠি লিখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কেন্দ্র ও ইউজিসি-র অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ।
  • পড়ুয়াদের ‘দেশবিরোধী’ তকমা দেওয়ার প্রচেষ্টাকে বাংলার মেধার অপমান হিসেবে চিহ্নিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
  • ভোটের আবহে শিক্ষিত ও তরুণ ভোটারদের সমর্থন টানতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *