ভোট গণনায় নজিরবিহীন কড়াকড়ি! পরিচয়পত্রে থাকছে QR কোড, ৭৭টি কেন্দ্রে থাকছে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হচ্ছে গোটা রাজ্য। আগামী ৪ মে ভোটগণনার দিন যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গসহ ভোট হওয়া রাজ্যগুলোতে এবারই প্রথম প্রবর্তন করা হচ্ছে কিউআর কোড ভিত্তিক ডিজিটাল ফটো আইডেন্টিটি কার্ড। মূলত অননুমোদিত প্রবেশ রুখতে এবং গণনা প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ রাখতেই এই আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।
নিশ্ছিদ্র ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়
গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তাকে এবার তিনটি স্তরে বিন্যস্ত করা হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরে রিটার্নিং অফিসারের দেওয়া পরিচয়পত্র ম্যানুয়ালি পরীক্ষা করা হলেও, মূল গণনা হলের প্রবেশপথে থাকছে কড়া ডিজিটাল নজরদারি। সেখানে কিউআর কোড স্ক্যান করা বাধ্যতামূলক। রিটার্নিং অফিসার থেকে শুরু করে গণনাকর্মী এবং প্রার্থীদের কাউন্টিং এজেন্ট—প্রত্যেককেই এই স্ক্যানিং প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। সফলভাবে কোড যাচাই হওয়ার পরেই মিলবে ভেতরে যাওয়ার অনুমতি।
রাজ্যের ৭৭ কেন্দ্রে চলবে ভাগ্য নির্ধারণ
কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার পশ্চিমবঙ্গে মোট ৭৭টি ভেন্যুতে ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটগণনা সম্পন্ন হবে। এর মধ্যে ৩৫টি কেন্দ্র জেলা সদরে এবং ৪২টি মহকুমা সদরে অবস্থিত। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে আলাদা মিডিয়া সেন্টার থাকলেও, তাঁদের প্রবেশের ক্ষেত্রেও কমিশনের অথরিটি লেটার থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই ডিজিটাল মডিউল কার্যকর করতে ইতিমধ্যে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে।
প্রযুক্তিগত প্রভাব ও স্বচ্ছতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিউআর কোড ভিত্তিক এই ব্যবস্থার ফলে পরিচয়পত্র জালিয়াতি বা জাল এজেন্টের মাধ্যমে গণনাকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা তৈরির সুযোগ আর থাকছে না। ইসিআই-নেট (ECINET)-এর এই বিশেষ মডিউলটি মূলত ভোটগণনার কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। নির্বাচন কমিশন এই কঠোর ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে যে, জনমতের প্রতিফলন বা গণনা প্রক্রিয়ায় কোনো ধরণের বাহ্যিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না।
এক ঝলকে
প্রার্থী, এজেন্ট ও নির্বাচন কর্মীদের এই বিশেষ ডিজিটাল কার্ড ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ ঘিরে রাজ্যে মোট ৭৭টি গণনাকেন্দ্র থাকছে।
অনুপ্রবেশ রুখতে এবারই প্রথম কিউআর কোড ভিত্তিক পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
গণনাকেন্দ্রের মূল প্রবেশপথে কিউআর কোড স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা।
