ভোট গণনার ৪৮ ঘণ্টা আগে সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা তৃণমূলের! কেন্দ্রীয় কর্মীদের নিয়োগ নিয়ে হস্তক্ষেপ করল না শীর্ষ আদালত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার ঠিক দুদিন আগে আইনি লড়াইয়ে বড়সড় ধাক্কা খেল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। ভোট গণনা কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তারা। তবে শনিবার শুনানির পর এই প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে সরাসরি অস্বীকার করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এর ফলে আগামী ৪ মে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত বিধি মেনেই রাজ্যে ২৯৪টি আসনের ভোট গণনা হতে যাচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও আইনি লড়াই
বিচারপতি পিএস নরসিংহ এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, গণনা প্রক্রিয়ায় কাকে নিয়োগ করা হবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা নির্বাচন কমিশনের রয়েছে। এর আগে কলকাতা হাইকোর্টও কমিশনের সিদ্ধান্তকে বহাল রেখেছিল। তৃণমূলের আইনজীবী কপিল সিব্বল আদালতে যুক্তি দিয়েছিলেন যে, মাইক্রো অবজার্ভার হিসেবে এমনিতেই কেন্দ্রীয় কর্মীরা থাকেন, সেখানে সুপারভাইজার পদেও তাদের বসানো হলে নিরপেক্ষতা বিঘ্নিত হতে পারে। তবে আদালত পাল্টায় জানায়, আইনত রাজ্য বা কেন্দ্রীয় যে কোনো স্তরের কর্মীকে এই কাজে নিয়োগ করা যায় এবং এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।
নির্বাচন কমিশনের অবস্থান ও প্রভাব
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আদালতকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, ১৩ এপ্রিলের সার্কুলার মেনেই স্বচ্ছতার সাথে গণনা সম্পন্ন হবে। কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি কাউন্টিং টেবিলে একজন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী বা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার কর্মী থাকা বাধ্যতামূলক। তৃণমূলের আশঙ্কা ছিল, কেন্দ্রীয় কর্মীরা বিজেপির প্রভাবাধীন হতে পারেন, যা গণনার ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। সুপ্রিম কোর্ট তৃণমূলের আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় এখন কমিশনের তদারকিতেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার বলয়ে গণনা সম্পন্ন হবে।
এক ঝলকে
- গণনা কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগের বিরুদ্ধে তৃণমূলের আবেদন খারিজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
- আদালত স্পষ্ট করেছে যে, গণনা কর্মীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
- ৪ মে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের ফলাফল নির্ধারিত হবে কড়া কেন্দ্রীয় নজরদারিতে।
- নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি টেবিলে কেন্দ্রীয় সুপারভাইজার নিয়োগের প্রক্রিয়া বহাল থাকছে।
