ভোট না দিলে কি নাগরিকত্ব শেষ? ভাইরাল গুজবের আসল সত্য জানুন – এবেলা

ভোট না দিলে কি নাগরিকত্ব শেষ? ভাইরাল গুজবের আসল সত্য জানুন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বাংলায় ভোট উৎসবের আবহে এক চাঞ্চল্যকর গুঞ্জন জনমনে তীব্র আতঙ্ক তৈরি করেছে। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে পাড়ার মোড়, সর্বত্রই শোনা যাচ্ছে যে ভোট না দিলে নাকি নাগরিকত্ব চলে যাবে কিংবা ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়া হবে। ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের (SIR) পর এই ভয় আরও জাঁকিয়ে বসেছে। তবে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম এবং সংবিধান খতিয়ে দেখলে বোঝা যায়, এই দাবির কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

সংবিধান ও ভোটাধিকারের আইনি রক্ষাকবচ

ভারতীয় সংবিধানের ৩২৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক প্রতিটি নাগরিকের ভোট দেওয়া একটি গণতান্ত্রিক অধিকার, কিন্তু এটি পালন করা আইনিভাবে বাধ্যতামূলক নয়। অর্থাৎ, কেউ যদি কোনো কারণে ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে রাষ্ট্র তাঁর নাগরিকত্ব কেড়ে নিতে পারে না। সুপ্রিম কোর্টও বিভিন্ন রায়ে স্পষ্ট করেছে যে, ভোট দেওয়া যেমন অধিকার, তেমনই ভোট না দেওয়া বা ‘নোটা’ ব্যবহার করে অসন্তোষ প্রকাশ করাও নাগরিকের মৌলিক স্বাধীনতার অংশ।

কখন কাটা যায় ভোটার তালিকা থেকে নাম

ভোট না দিলেই নাম কাটা যাবে, এই ধারণাও সম্পূর্ণ ভুল। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, নাম বাদ দেওয়ার নির্দিষ্ট কিছু কারণ থাকে— যেমন ভোটারের মৃত্যু হলে, ঠিকানায় ভুল থাকলে বা দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ওই এলাকায় খুঁজে না পাওয়া গেলে। তবে কেউ যদি টানা ১০ বছর বা তার বেশি সময় কোনো নির্বাচনে অংশ না নেন, তবে তাঁর কার্ডটি সাময়িকভাবে ‘নিষ্ক্রিয়’ হতে পারে, যা প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে পুনরায় সক্রিয় করা সম্ভব। এর সাথে নাগরিকত্ব হারানোর কোনো সম্পর্ক নেই।

অসাধু মহলের ছড়ানো এই গুজব মূলত ভোটারদের মনে ভীতি তৈরি করে বুথমুখী করার একটি কৌশল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রথম দফার নির্বাচনে উচ্চ হারের নেপথ্যে এই ‘নাম কাটার ভয়’ কাজ করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে সুস্থ গণতন্ত্র রক্ষায় ভোট দেওয়া প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক কর্তব্য হলেও, তা না করার কারণে কোনো আইনি শাস্তির বিধান নেই। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক তথ্য জেনে রাখা জরুরি।

এক ঝলকে

  • ভোট না দিলে নাগরিকত্ব বাতিল হওয়ার দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং গুজব।
  • ভোট দেওয়া একটি সাংবিধানিক অধিকার, আইনি বাধ্যবাধকতা নয়।
  • শুধুমাত্র ভোট না দেওয়ার কারণে কারোর নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়।
  • নাগরিকত্ব এবং ভোটার তালিকায় নাম থাকা দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *