মঞ্চে ডুকরে কেঁদে উঠলেন আরজি কর নির্যাতিতার মা, পাশে দাঁড়িয়ে সান্ত্বনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী – এবেলা

মঞ্চে ডুকরে কেঁদে উঠলেন আরজি কর নির্যাতিতার মা, পাশে দাঁড়িয়ে সান্ত্বনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে জলহাটির জনসভায় এক অভূতপূর্ব ও আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। জনসভার মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঠিক পাশের আসনেই বসেছিলেন জলহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রতনা দেবনাথ। আরজি কর মেডিকেল কলেজে নৃশংসভাবে প্রাণ হারানো সেই ছাত্রীর মা যখন প্রধানমন্ত্রীর সান্নিধ্যে আসেন, তখন নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। প্রধানমন্ত্রী তাঁর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেই মঞ্চে সকলের সামনে ডুকরে কেঁদে ওঠেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে হাত জোড় করে রত্না দেবনাথের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করতে দেখা যায়, যা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

শোককে শক্তিতে রূপান্তরের লড়াই

রাজনৈতিক পরিচিতি নয় বরং সন্তানের বিচার পাওয়ার তীব্র আকুতি থেকেই রত্না দেবনাথ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রত্না দেবী জানান, তিনি নিজেই বিজেপিকে চিঠি লিখে নির্বাচনে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর লক্ষ্য বিধানসভায় গিয়ে নারী সুরক্ষায় কঠোর আইন প্রণয়ন করা, যাতে আর কোনো মা’কে তাঁর মতো প্রিয়জন হারাতে না হয়। বিজেপির এই সিদ্ধান্তকে প্রধানমন্ত্রী মোদী ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের লড়াই’ বলে অভিহিত করেছেন। নির্বাচনে তাঁর হয়ে প্রচারণা করতে এর আগে অমিত শাহ ও স্মৃতি ইরানিও জলহাটিতে উপস্থিত হয়েছিলেন।

রাজনৈতিক প্রভাব ও মোদীর কড়া বার্তা

জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদী তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ শাসনকালকে ‘মহাজঙ্গলরাজ’ বলে কটাক্ষ করেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে আরজি কর কাণ্ড ও সন্দেশখালির মতো প্রতিটি ঘটনার ফাইল নতুন করে খোলা হবে। দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট রাজ মুক্ত করে বাংলাকে নারীদের জন্য নিরাপদ করার ‘মোদী গ্যারান্টি’ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই সংবেদনশীল আচরণ এবং নির্যাতিতার মাকে রাজনৈতিকভাবে সামনে নিয়ে আসা মূলত রাজ্যের নারী ভোটারদের কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • জলহাটির নির্বাচনী মঞ্চে আরজি কর নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ প্রধানমন্ত্রীর সামনেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
  • রত্না দেবনাথ এবার বিজেপি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন যার মূল লক্ষ্য নারী সুরক্ষা আইন কঠোর করা।
  • প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ৪ মের পর নারী নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত ও বিচারের আশ্বাস দেন।
  • তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনকালকে ‘কুশাসন’ আখ্যা দিয়ে বাংলাকে সিন্ডিকেট মুক্ত করার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *