মধ্যরাতে রণক্ষেত্র বহরমপুর! আক্রান্ত কংগ্রেস কর্মীদের দেখে ‘অস্ত্র রাখার’ দাওয়াই অধীরের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে ভোট পরবর্তী হিংসার আগুনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ালো। শনিবার মধ্যরাতে বহরমপুর পুরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডে এক কংগ্রেস সমর্থকের বাড়িতে বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় এক মহিলাসহ একই পরিবারের তিন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তাঁরা মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার খবর পেয়েই রাতেই আক্রান্তদের বাড়িতে পৌঁছান বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী।
আক্রমণের প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক সংঘাত
আক্রান্ত পরিবারের সদস্য দিয়া ঘোষের অভিযোগ, রাতে বাড়ি ফেরার সময় তৃণমূল আশ্রিত কিছু যুবক তাঁকে লক্ষ্য করে কুরুচিকর মন্তব্য করে। প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে একদল দুষ্কৃতী তাঁদের বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর ও মারধর চালায়। অধীর চৌধুরীর দাবি, ভোটের দিন ওই পরিবারটি তাঁর সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেছিল বলেই তাঁদের ওপর এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় বহরমপুর শহর যুব তৃণমূল সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অধীরের নিদান ও ঘনীভূত বিতর্ক
আক্রান্তদের পাশে দাঁড়িয়ে অধীর চৌধুরী সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়েছেন। তবে এই পরিস্থিতিতে তিনি স্থানীয়দের ‘বাড়িতে অস্ত্র রাখার’ যে পরামর্শ দিয়েছেন, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদের মতে, এই ধরণের মন্তব্য আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে। অন্যদিকে, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনে এই হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানো হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক পুলিশি টহল চলছে।
এক ঝলকে
- বহরমপুরের চার নম্বর ওয়ার্ডে কংগ্রেস সমর্থকের বাড়িতে মধ্যরাতে হামলা ও ভাঙচুর।
- আক্রান্ত মহিলাসহ একই পরিবারের তিন জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
- আক্রান্তদের পাশে দাঁড়িয়ে আত্মরক্ষার্থে বাড়িতে অস্ত্র রাখার বিতর্কিত নিদান অধীর চৌধুরীর।
- যুব তৃণমূল সভাপতির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানিয়েছে কংগ্রেস।
