মমতার দয়ায় বাংলায় বাড়ছে বিজেপি, মুসলিমদের গরু-ছাগল ভাবেন মুখ্যমন্ত্রী!

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৃণমূল কংগ্রেস এবং অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM)-এর মধ্যকার দূরত্ব ক্রমে বাড়ছে। সম্প্রতি মিম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসির আক্রমণাত্মক মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে মুসলিম তোষণ ও ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির অভিযোগ তুলে ওয়েইসি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমোকে।

মমতার অতীত ও বিজেপির ‘বি-টিম’ বিতর্ক

তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরেই ওয়েইসির দলকে বিজেপির ‘বি-টিম’ বা ‘ভোট কাটুয়া’ হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষাপটে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ওয়েইসি। তিনি তৃণমূল নেত্রীর দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের পুরোনো অধ্যায় টেনে এনে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে অতীতে অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের অংশ ছিলেন এবং মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, সেই প্রসঙ্গটিই সামনে এনেছেন ওয়েইসি। তার দাবি, বিজেপিকে শক্তিশালী করার দায়ভার তৃণমূলের ওপরই বর্তায়, কারণ জোট রাজনীতির সেই সময় থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে গেরুয়া শিবিরের সখ্যতার ইতিহাস রয়েছে।

মুসলিম উন্নয়ন ও ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির সমীকরণ

ওয়েইসির অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সম্প্রদায়ের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা। তিনি তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘ভোটব্যাঙ্ক’ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবির প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

মুসলিমদের কেবল ভোটের প্রয়োজনে ব্যবহার করে পরবর্তীতে গুরুত্বহীন করে রাখা হয়। তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
রাজ্যের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় মুসলিমদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (SEZ) তৈরির দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়নি বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ওয়েইসি দাবি করেছেন, অতীতে যখন অনেক মুসলিম নাগরিক বঞ্চনার শিকার হয়েছেন, তখন তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোর নীরবতা ছিল রহস্যজনক।

হুমায়ুন কবীর ও দলীয় ভাঙন

বাংলার রাজনীতিতে মিম-এর ভিত মজবুত করতে গিয়ে হোঁচট খেয়েছেন ওয়েইসি। তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে মিম-এর যে সমীকরণ তৈরি হয়েছিল, তা স্টিং অপারেশনের জেরে ভেঙে যায়। অভিযোগ ওঠে, হুমায়ুন কবীর বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগসূত্র রেখে চলেছেন। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই নেতা, তবুও ওয়েইসি তাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবেই চিহ্নিত করেছেন। বর্তমানে মিম কোনো সমঝোতায় না গিয়ে রাজ্যে নিজস্ব শক্তিতে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নির্বাচনী প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মিম খুব একটা ভালো ফল করতে না পারলেও, আসন্ন নির্বাচনে তারা বড় ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। বিশেষ করে মালদা, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম এবং আসানসোলের ৯টি আসনে লড়াই করার ঘোষণা দিয়ে তারা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই একক লড়াইয়ের ফলে মুসলিম ভোটব্যাংকে বিভাজন তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরোক্ষভাবে রাজ্যের শাসকদলের অস্বস্তি বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, ওয়েইসি এই লড়াইকে দেখছেন মুসলিমদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর হিসেবে।

এক ঝলকে

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির শক্তিবৃদ্ধির জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করলেন আসাদউদ্দিন ওয়েইসি।
মমতার এনডিএ আমলে মন্ত্রী থাকার অতীত স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে ‘বি-টিম’ তকমার পাল্টা জবাব দিলেন মিম প্রধান।
মুসলিমদের উন্নয়নের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (SEZ) তৈরির জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
স্টিং অপারেশনের জেরে বিদ্রোহী নেতা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে জোট সম্পর্ক ছিন্ন করেছে মিম।
আসন্ন নির্বাচনে মালদা, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম এবং আসানসোলের ৯টি আসনে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ওয়েইসির দল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *