মমতার হাতছাড়া হচ্ছে জোড়াফুল প্রতীক ও দলের নাম, বড়সড় প্রস্তুতিতে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির! – এবেলা

মমতার হাতছাড়া হচ্ছে জোড়াফুল প্রতীক ও দলের নাম, বড়সড় প্রস্তুতিতে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তৃণমূল কংগ্রেসে নিছক ভাঙন নয়, এবার বিদ্রোহের এক প্রবল ঢেউ আছড়ে পড়েছে। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে এবার অফিশিয়াল দলীয় নাম ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং নির্বাচনী প্রতীক ‘জোড়াফুল’ হাতছাড়া হওয়ার তীব্র সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, তারাই ‘প্রকৃত তৃণমূল’ এবং এই মর্মে খুব শীঘ্রই তারা নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হতে চলেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলার রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের আবহ তৈরি হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার প্রস্তুতি ও আইনি লড়াই

বিদ্রোহী শিবির সূত্রে খবর, নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক নথিপত্র জমা দেওয়ার আগে তারা নতুন সভাপতি, কোষাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন দলীয় পদাধিকারী বাছাইয়ের কাজ প্রায় শেষ করে এনেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক সময়কার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও ‘কিচেন ক্যাবিনেটের’ সদস্য হিসেবে পরিচিত রাজ্যের এক প্রাক্তন হেভিওয়েট মন্ত্রী এই নতুন শিবিরের সভাপতি হতে পারেন বলে জল্পনা। পরিষদীয় ও সংসদীয় দলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা কার পক্ষে, কমিশন মূলত তা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, মহারাষ্ট্রে উদ্ধব ঠাকরের হাত থেকে যেভাবে একনাথ শিন্ডে শিবির ‘আসল শিবসেনা’র নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিয়েছিল, বাংলায় জোড়াফুল শিবিরের ক্ষেত্রেও সেই ‘মহারাষ্ট্র মডেল’-এর পুনরাবৃত্তি ঘটার আশঙ্কা করছেন কালীঘাট ঘনিষ্ঠ নেতারা। এদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেওয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

বিধানসভা থেকে লোকসভা, বাড়ছে বিদ্রোহীদের দাপট

বর্তমানে বিধানসভার পরিষদীয় দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছেন বলে দাবি বিদ্রোহীদের। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তাঁদের পক্ষে বিধায়কদের সংখ্যা আরও বাড়বে। সম্প্রতি বিধানসভায় কলকাতার সদ্য-প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে ঋতব্রতর দীর্ঘ বৈঠক এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিধায়ক শামিম আহমেদের উপস্থিতি এই জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছে। শুধু রাজ্যেই নয়, জাতীয় স্তরেও ধাক্কা খেয়েছে কালীঘাট। লোকসভায় কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দপ্তরে চিঠি দিয়েছেন। ফলে লোকসভা ও বিধানসভা— উভয় জায়গাতেই বিদ্রোহী শিবির অফিশিয়াল স্বীকৃতি পাওয়ার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে।

এই চরম সংকটের পেছনে শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে নিচুতলার সঠিক রাজনৈতিক তথ্য বা ‘ফিডব্যাক’ না পৌঁছানো এবং অভ্যন্তরীণ অসন্তোষকে অবহেলা করাকেই মূল কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। দলের এই নজিরবিহীন মুষলপর্বের ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একক রাজনৈতিক কর্তৃত্ব বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। যদি নির্বাচন কমিশন বিদ্রোহী শিবিরকে মূল দল ও প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তবে তা বর্তমান শাসক শিবিরের জন্য এক চূড়ান্ত বিপর্যয় ডেকে আনবে এবং দীর্ঘদিনের চেনা রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *