মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে সিআইডি হানা, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সরব কল্যাণ! – এবেলা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে সিআইডি হানা, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সরব কল্যাণ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিধানসভায় বিধায়কদের সই জালকাণ্ডের তদন্তে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের কার্যালয়ে তল্লাশি চালালেন সিআইডি গোয়েন্দারা। হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে অবস্থিত এই কার্যালয়ে যখন তল্লাশি চালানো হয়, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লিতে রয়েছেন। ঘটনার আকস্মিকতায় এবং তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে এই তল্লাশিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

এই তল্লাশি অভিযান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, তদন্তকারী সংস্থার আড়ালে রাজনৈতিক অভিসন্ধি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, সিআইডির সঙ্গে যে দুজনকে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছিল, তারা আদতে বিজেপির কর্মী এবং স্থানীয় নন। পরিকল্পিতভাবে মুখ্যমন্ত্রীর ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করছেন। একইসঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দিকে আঙুল তুলে তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতির অভিযোগ এনেছেন।

বিধানসভার বিধায়কদের সই জালিয়াতির যে নির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে, সেই চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঠিকানাই উল্লেখ ছিল। সেই তথ্যের সূত্র ধরেই তদন্তের স্বার্থে সিআইডি সেখানে পৌঁছায়। প্রাথমিক পর্যায়ে বাধার সম্মুখীন হলেও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে ভেতরে প্রবেশ করেন গোয়েন্দারা। বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতিতে তাঁর কার্যালয়ে এই তল্লাশি রাজ্য রাজনীতিতে সংঘাতের আবহ আরও বাড়িয়ে দিল। একদিকে যখন এই ঘটনা ঘটছে, ঠিক তখনই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সিআইডির তৃতীয় তলব এড়িয়ে গিয়েছেন। কলকাতার বাইরে থাকার কারণ দর্শিয়ে তিনি হাজিরা এড়িয়ে চলায় পুরো বিষয়টি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। এই ঘটনার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, কারণ আইনি তদন্তের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক আক্রমণের তীব্রতা যে মাত্রায় বৃদ্ধি পাচ্ছে, তা আসন্ন দিনগুলোতে বড় কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতার ইঙ্গিতবাহী হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *