মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বড় ঘোষণা! এক্সিট পোলকে ‘ভুয়ো’ তকমা দিয়ে জয়ের সংখ্যাও জানিয়ে দিলেন দিদি

নির্বাচনী বুথফেরত সমীক্ষাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা দাবি, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরছে ‘মা-মাটি-মানুষ’-এর সরকার। আজ এক ভিডিও বার্তায় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তিনি দাবি করেন, অধিকাংশ এক্সিট পোল বা বুথফেরত সমীক্ষাই অর্থের বিনিময়ে এবং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অভিসন্ধি থেকে তৈরি করা হয়েছে। ভয়ংকর দাবদাহ এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর চাপের মুখে দাঁড়িয়েও সাধারণ মানুষ গণতন্ত্র রক্ষা করতে যেভাবে ভোট দিয়েছেন, তার জন্য জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
ভোট গণনায় কারচুপির আশঙ্কা ও সতর্কতা
নিজের ৯ মিনিট ৫ সেকেন্ডের বক্তৃতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী শিবির ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ইভিএম বদল বা গণনাকেন্দ্রে কারচুপির বড় ধরনের চক্রান্ত হতে পারে। তাই তৃণমূলের সমস্ত প্রার্থী এবং কর্মীদের ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত গণনাকেন্দ্র ত্যাগ না করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। দলীয় কর্মীদের ধৈর্য ধরতে এবং শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি সাফ জানান, ফলাফল যাই হোক, মাঠের লড়াইয়ে তৃণমূলই শেষ হাসি হাসবে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রেক্ষাপট
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বুথফেরত সমীক্ষায় বিজেপিকে এগিয়ে রাখার বিপরীতে মমতার এই ‘২২৬ আসন’ জেতার ঘোষণা আসলে কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার একটি কৌশল। একদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, অন্যদিকে তৃণমূলের একক সাংগঠনিক লড়াই—এই দ্বৈরথ রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে। ৪ মে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নতুন অবতার এবং স্মার্টওয়াচ হাতে দেওয়া বার্তাটি রাজনৈতিক মহলে বেশ চর্চিত হচ্ছে।
এক ঝলকে
কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও ভিনরাজ্যের নেতাদের ‘দমনমূলক’ রাজনীতির বিরুদ্ধে জনগণের রায়ের ওপর আস্থা।
বুথফেরত সমীক্ষাকে ‘পেইড নিউজ’ আখ্যা দিয়ে তৃণমূলের ফের ক্ষমতায় আসার জোরালো দাবি মমতার।
২০২৬ সালের নির্বাচনে ২ শতাংশেরও বেশি আসন বৃদ্ধির মাধ্যমে ২২৬টি আসন জয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ।
ইভিএম রক্ষা ও গণনাকেন্দ্রে অতন্দ্র প্রহরীর মতো কর্মীদের নজরদারি চালানোর নির্দেশ।
