মহর্ষি মহেশ যোগী ফাউন্ডেশনে জমি কেলেঙ্কারি! সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠন হচ্ছে SIT – এবেলা

মহর্ষি মহেশ যোগী ফাউন্ডেশনে জমি কেলেঙ্কারি! সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠন হচ্ছে SIT – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আধ্যাত্মিক সাধনা ও জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত মহর্ষি মহেশ যোগী ফাউন্ডেশনের বিপুল পরিমাণ জমি নিয়ে বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এই জমি কেলেঙ্কারি রুখতে এবং প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে উত্তরপ্রদেশের মুখ্য সচিবের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি জে. কে. মহেশ্বরী এবং বিচারপতি অতুল এস. চন্দুরকরের সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ প্রদান করেন।

একইসঙ্গে আদালত এলাহাবাদ হাইকোর্টের দেওয়া সেই অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ বাতিল করে দিয়েছে, যেখানে পুলিশকে এই মামলার চার্জশিট দাখিল করতে নিষেধ করা হয়েছিল। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, তদন্ত চলাকালীন কোনো অভিযুক্তকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া আদালতের বিবেচনার বিষয় হতে পারে, কিন্তু ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ধারা অনুযায়ী পুলিশ রিপোর্ট বা চার্জশিট জমা দিতে বাধা দেওয়া এই মামলার ক্ষেত্রে যুক্তিহীন।

আভ্যন্তরীণ কোন্দল ও কোটি টাকার জালিয়াতি

‘স্পিরিচুয়াল রিজেনারেশন মুভমেন্ট ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া’ (SRMFI) মূলত ট্রানসেন্ডেন্টাল মেডিটেশন বা ভাবাতীত ধ্যানের মাধ্যমে বিশ্বশান্তি প্রসারের লক্ষ্যে ১৯৬৩ সালে মহর্ষি মহেশ যোগী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ২০০৮ সালে তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই এই বিশাল সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শুরু হয় তীব্র ক্ষমতার লড়াই। অজয় প্রকাশ শ্রীবাস্তব এবং চন্দ্র মোহন—এই দুই ব্যক্তির অনুসারী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছালে ফাউন্ডেশনের কোটি কোটি টাকার জমি হাতছাড়া হতে শুরু করে। অভিযোগ উঠেছে যে, জাল নথিপত্র, ভুয়া পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি এবং নথিতে কারচুপির মাধ্যমে ফাউন্ডেশনের ফ্রি-হোল্ড জমিগুলো অসাধু উপায়ে ব্যক্তিগত স্বার্থে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে।

প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

আদালতের এই হস্তক্ষেপের ফলে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত এই জমি কেলেঙ্কারির জট খোলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠনের ফলে এখন সুনির্দিষ্টভাবে খতিয়ে দেখা হবে কীভাবে আধ্যাত্মিক কাজের জন্য নির্ধারিত সম্পত্তি ব্যক্তিগত মুনাফার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। ফাউন্ডেশনের মূল আদর্শ অর্থাৎ মানবকল্যাণ ও আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ড পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে এই তদন্ত বড় ভূমিকা রাখবে। উত্তরপ্রদেশ সরকারের শীর্ষ আমলাতন্ত্রের সরাসরি নজরদারিতে এই তদন্ত পরিচালিত হওয়ায় এতে স্বচ্ছতা ও গতি উভয়ই বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *