“মহিলা-শিশুদের পিটিয়েছিলেন!” কালীঘাটের নিলম্বিত ওসির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মমতা, পর্যবেক্ষকদের দিলেন চরম হুঁশিয়ারি

“মহিলা-শিশুদের পিটিয়েছিলেন!” কালীঘাটের নিলম্বিত ওসির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মমতা, পর্যবেক্ষকদের দিলেন চরম হুঁশিয়ারি

আগামীকাল ৪ মে মহাগণনা। তার আগে শনিবার তৃণমূলের কাউন্টিং এজেন্টদের সঙ্গে এক দীর্ঘ ভার্চুয়াল বৈঠকে বিস্ফোরক মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে কালীঘাট থানার নিলম্বিত (সাসপেন্ড হওয়া) ওসি গৌতম দাসের বিরুদ্ধে কড়া অভিযোগ তোলার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের পুলিশ পর্যবেক্ষকদেরও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

গৌতম দাসের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

তৃণমূল সূত্রে খবর, বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে কালীঘাটের নিলম্বিত ওসি গৌতম দাস সাধারণ মহিলা এবং শিশুদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে একটি ছবি পোস্ট করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন এই পুলিশ আধিকারিক। সেই ছবিকে ‘আপত্তিকর’ দাবি করে তৃণমূলের প্রতিবাদের পর শনিবারই লালবাজারের পক্ষ থেকে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট করে দেন যে, এ ধরণের আচরণ বরদাস্ত করা হবে না।

পর্যবেক্ষকদের হুঁশিয়ারি: “আদালতে টেনে আনা হবে”

গৌতম দাসের প্রসঙ্গের রেশ টেনেই মুখ্যমন্ত্রী এদিন নিশানা করেন ভিন্‌রাজ্য থেকে আসা পুলিশ পর্যবেক্ষকদের। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশ বা অন্য রাজ্য থেকে আসা আধিকারিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “অনেকে ভাবছেন ৪ মে-র পর নিজেদের রাজ্যে পালিয়ে গিয়ে পার পাবেন। কিন্তু তা হবে না। অসাংবিধানিক কাজে মদত দেওয়ার জন্য প্রত্যেককে আদালতে টেনে আনা হবে।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই হুঁশিয়ারি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল, কারণ গত কয়েকদিন ধরে ফলতা-সহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মার সঙ্গে তৃণমূল প্রার্থীর সংঘাত প্রকাশ্যে এসেছে।

এজেন্টদের জন্য বাড়তি সতর্কতা

দেড় ঘণ্টা ব্যাপী এই বৈঠকে মমতার পাশাপাশি ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এজেন্টদের উদ্দেশ্যে মমতার স্পষ্ট বার্তা, গণনাকেন্দ্রে যেন কোনওভাবেই নজরদারিতে ঢিলেমি না দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনী বা পর্যবেক্ষকদের কোনও ‘অন্যায়’ চাপের কাছে নতিস্বীকার না করার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *