‘মাছ ছাড়া বাঙালি, প্রেমহীন ভালোবাসার মতো’: বাগেশ্বর বাবার নিদান উড়িয়ে চাঁচাছোলা শমীক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 17, 20267:42 am
দুর্গাপূজায় নিরামিষ না খেলে বাঙালি ‘পাখণ্ডি’— মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বর ধামের ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর এই মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। এবার এই নিদানের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দাগলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। একটি একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “বাঙালিকে পাখণ্ডি বলার অধিকার কারও নেই।” নিজের বক্তব্যকে রসিকতার ছলে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শমীক বলেন, “মাছ ছাড়া বাঙালি হলো ঠিক প্রেমহীন ভালোবাসার মতো।”
বাঙালির খাদ্যাভ্যাস ও ঐতিহ্য
বাগেশ্বর বাবার রাজ্যে আসা বা প্রচার করা নিয়ে আপত্তি না থাকলেও, দুর্গাপূজায় বাঙালির মাছ-মাংস খাওয়ার প্রথাকে আক্রমণ করা মানতে নারাজ শমীক। বাঙালির ঐতিহ্য মনে করিয়ে দিয়ে তিনি রামমোহন রায়, বিদ্যাসাগর, বিবেকানন্দ, ব্যাংকিমচন্দ্র ও রবীন্দ্রনাথের কথা তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, “বন্দে মাতরমের জনক ও জনগণমন-র রচয়িতা মাছ খেতেন। রামমোহন সকালে কচি পাঁঠা আর লুচি খেতেন।” এমনকি মিথিলাঞ্চলেও পূজায় মাছের ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে তিনি পাল্টা প্রশ্ন তোলেন।
তোলাবাজি ও অভ্যন্তরীণ বিচ্যুতি স্বীকার
সাক্ষাৎকারে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক জলঘোলা নিয়েও স্পষ্ট কথা বলেন বিজেপি সভাপতি।
- তোলাবাজি: স্থানীয় স্তরে তোলাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেননি তিনি। স্বীকার করে নেন যে দলীয় কর্মীদের একাংশের মধ্যে বিচ্যুতি এসেছে। তবে দল যে এসব ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিয়েছে, তাও তিনি স্পষ্ট করেন।
- দলবদল ও রাজ্যসভা: তৃণমূল থেকে আসা সাংসদদের বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভায় পাঠানো প্রসঙ্গে মুচকি হেসে ছায়াছবির গান উদ্ধৃত করেন— ‘কথা কিছু কিছু বুঝে নিতে হয়’। তবে তিনজনকে দলে নেওয়ার অর্থ পুরো দল তৃণমূল হয়ে যাওয়া নয় বলেই তাঁর দাবি।
অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানো ও শিল্পের স্বপ্ন
অতীতে মহারাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলার যে প্রতিযোগিতার আবহ ছিল, তা ফেরিয়ে আনার পক্ষে সওয়াল করেন শমীক। রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ফেরাতে প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহারের ওপর জোর দেন তিনি:
- প্রাকৃতিক সম্পদ: অশোকনগরের তেল, রানাঘাটের প্রাকৃতিক গ্যাস, জঙ্গলমহলের ম্যাঙ্গানিজ ও পুরুলিয়ার ‘রেয়ার আর্থ’ রাজ্যকে নতুন দিশা দেখাবে।
- শিল্পের প্রত্যাবর্তন: টাটা, বিড়লা ও রিল্যায়েন্সের মতো বড় শিল্পগোষ্ঠী রাজ্যে বিনিয়োগের দিকে এগোচ্ছে জানিয়ে শমীক আশা প্রকাশ করেন, খুব শীঘ্রই রাজ্যের থমকে যাওয়া অর্থনৈতিক চাকা আবার ঘুরতে শুরু করবে।
