মাঝরাতে আকস্মিক হৃদরোগ, ৪৫ মিনিটের প্রাণপণ লড়াই ব্যর্থ: চিরঘুমের দেশে নানা পাটেকর – এবেলা

মাঝরাতে আকস্মিক হৃদরোগ, ৪৫ মিনিটের প্রাণপণ লড়াই ব্যর্থ: চিরঘুমের দেশে নানা পাটেকর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের আকস্মিক প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা সিনেদুনিয়ায়। গোয়ার ডোনা পাওলায় নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই খ্যাতিমান অভিনেতা। চিকিৎসকদের দীর্ঘ ৪৫ মিনিটের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও শেষরক্ষা করা যায়নি।

ঘটনার সূত্রপাত বুধবার মধ্যরাতের পর। সূত্রের খবর, রাত আনুমানিক আড়াইটে নাগাদ তীব্র শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করেন নানা পাটেকর। সেই অবস্থাতেই তিনি নিজের এক বন্ধুকে সাহায্য চেয়ে মেসেজ পাঠান। তবে গভীর রাতে ঘুমিয়ে থাকায় সেই বন্ধু মেসেজটি দেখতে পাননি। ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ মেসেজটি নজরে আসতেই তিনি চিকিৎসক ও কেয়ারটেকারকে সঙ্গে নিয়ে তড়িঘড়ি নানার বাসভবনে ছোটেন।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় অভিনেতাকে। অবস্থা আশঙ্কাজনক বুঝতে পেরে সেখান থেকেই তাঁকে কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (CPR) দেওয়া শুরু হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে অ্যাম্বুল্যান্সেও নিরবচ্ছিন্নভাবে CPR চলতে থাকে। মণিপাল হাসপাতালের চিকিৎসক ডঃ শেখর সালকর জানান, প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে লাগাতার CPR দেওয়া সত্ত্বেও সাড়া দেয়নি অভিনেতার শরীর। অবশেষে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঘটনাটি মেডিকো-লিগ্যাল কেস (MLC) হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর নানার ঘনিষ্ঠ মহলে তৈরি হয়েছে আক্ষেপ— আরও একটু আগে চিকিৎসা শুরু করা গেলে হয়তো অলৌকিক কিছু ঘটতে পারত।

পাঁচ দশকের দীর্ঘ অভিনয় জীবনে ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘প্রহার’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘খামোশি’ এবং ‘ওয়েলকাম’-এর মতো চলচ্চিত্রে বলীয়ান অভিনয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন নানা পাটেকর। সিনেমা ও থিয়েটার— উভয় মাধ্যমেই তাঁর উপস্থিতি ছিল একচ্ছত্র। ভারতীয় চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে তিনি সম্মানিত হন ‘পদ্মশ্রী’ উপাধিতে। তাঁর এই অকালপ্রয়াণে ভারতীয় চলচ্চিত্র ও নাট্যজগতে সৃষ্টি হলো এক অপূরণীয় শূন্যতা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *