মাঝরাতে পুণেতে গ্যাস বিপর্যয়! ক্লোরিন লিক হয়ে অসুস্থ ২৪, আতঙ্ক

মহারাষ্ট্রের পুণে শহরের কোন্ধওয়া এলাকায় এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার গভীর রাতে গঙ্গারাম সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত জল শোধন প্ল্যান্ট থেকে বিষাক্ত ক্লোরিন গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাত প্রায় ১টা নাগাদ এই গ্যাস লিক করার ঘটনা ঘটে, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র শ্বাসকষ্ট ও শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করতে শুরু করেন।
বিপজ্জনক উদ্ধার অভিযান
গ্যাস লিক হওয়ার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। উদ্ধারকাজ চলাকালীন বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে ২২ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ২ জন দমকলকর্মী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় সসুন জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দমকল বাহিনী বিশেষ সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ক্লোরিন ট্যাংকের ছিদ্র মেরামত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
অসতর্কতার মাসুল
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট জল শোধন প্ল্যান্টটি দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ ছিল। মালিকের দাবি অনুযায়ী, প্ল্যান্ট বন্ধ করে দিলেও ক্লোরিন গ্যাসের ট্যাংকটি সেখান থেকে সরানো হয়নি। দীর্ঘদিনের অবহেলায় পড়ে থাকা সেই সিলিন্ডার থেকেই মূলত ছিদ্র তৈরি হয়ে বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়। কর্তৃপক্ষের এমন গাফিলতি জননিরাপত্তাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে হাসপাতালের পর্যবেক্ষণে থাকা ২৪ জনই আশঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তবে এই ঘটনার ফলে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় শিল্প-বর্জ্য বা বিপজ্জনক রাসায়নিক সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আইনি কঠোরতার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে। প্রশাসন পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং সংশ্লিষ্ট মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এক ঝলকে
- পুণের কোন্ধওয়ায় পরিত্যক্ত জল শোধন প্ল্যান্ট থেকে ক্লোরিন গ্যাস লিক হয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
- ২২ জন বাসিন্দা এবং ২ জন দমকলকর্মীসহ মোট ২৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
- ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতায় ট্যাংকের মেরামত করে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
- প্ল্যান্ট বন্ধ থাকলেও বিপজ্জনক গ্যাসের সিলিন্ডার মজুত রাখা এই দুর্ঘটনার মূল কারণ।
