লেটেস্ট নিউজ

মাঝরাস্তায় বিকল ইঞ্জিন! জল-বিদ্যুৎহীন কামরায় ৩ ঘণ্টা বন্দি কয়েকশো যাত্রী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নিউজ ডেস্ক: মাঝপথে হঠাৎ বিকল ইঞ্জিন! আর তার জেরেই নদিয়ার ধুবুলিয়া স্টেশনে টানা ৩ ঘণ্টা ঠায় দাঁড়িয়ে রইল কলকাতা-সাইরাং এক্সপ্রেস। রেলের এই চরম বিভ্রাটে চূড়ান্ত ভোগান্তির শিকার হলেন কয়েকশো দূরপাল্লার যাত্রী। বিশেষ করে এসি কামরার পরিস্থিতি হয়ে ওঠে দুর্বিষহ। বিদ্যুৎহীন কামরায় গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা তৈরি হয় পর্যটক থেকে শুরু করে সাধারণ যাত্রীদের।

ঘটনার বিবরণ স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার দুপুরে নদিয়ার কৃষ্ণনগর স্টেশন পেরিয়ে বহরমপুরের দিকে যাওয়ার সময় ধুবুলিয়া স্টেশনে আচমকা দাঁড়িয়ে পড়ে ট্রেনটি। রেল সূত্রে খবর, রানাঘাট স্টেশন ছাড়ার পর থেকেই ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। কৃষ্ণনগর স্টেশনে প্রাথমিক পরীক্ষার পর সবুজ সংকেত মিললেও, ৫ মিনিটের মাথায় ধুবুলিয়ার কাছে ইঞ্জিন পুরোপুরি বসে যায়। দুপুর ১২টা ৪৮ মিনিট থেকে বিকেল ৩টে ৪৯ মিনিট পর্যন্ত স্টেশনেই আটকে থাকে ট্রেনটি।

যাত্রীদের ক্ষোভ ও ভোগান্তি দীর্ঘক্ষণ ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন যাত্রীরা। এসি থ্রি টিয়ার কামরার যাত্রী তথা সেনাকর্মী প্রবীর আইচ জানান, রবিবার বিকেলের মধ্যে তাঁর গুয়াহাটি পৌঁছানোর কথা ছিল, সেখান থেকে পাহাড়ে নিজের ইউনিটে যোগ দেওয়ার কথা। ট্রেনের এই অবস্থায় সময়ে পৌঁছানো নিয়ে তিনি গভীর সংশয়ে।

অন্যদিকে, হাওড়ার রামরাজাতলার বাসিন্দা মঞ্জুশ্রী কারক সপরিবার দার্জিলিং যাচ্ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, “হোটেল থেকে গাড়ি— সব বুক করা আছে। এখন পুরো প্ল্যান ওলটপালট হয়ে গেল। শৌচাগারে জল নেই, এসি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। রেলের পক্ষ থেকে আমাদের কিছুই জানানো হচ্ছে না।”

রেল কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ রেলের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কর্মীরা পরীক্ষা করে জানান, ইঞ্জিনে ‘পাওয়ার সাপ্লাই’ জনিত বড়সড় সমস্যা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প ইঞ্জিনের ব্যবস্থা করা হয়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই বিশেষ এক্সপ্রেস ট্রেনটির উদ্বোধন করেছিলেন। রেল কর্তৃপক্ষ এই যান্ত্রিক বিভ্রাটকে ‘অপ্রত্যাশিত’ বলে বর্ণনা করেছেন। শেষমেশ বিকল্প ইঞ্জিন জুড়ে বিকেল ৩টে ৪৯ মিনিটে ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *