মাঠে দৌড়চ্ছিলেন, হঠাৎই থেমে গেল সব… সুস্থ ক্রিকেটারের মৃত্যুতে যে ভয়ঙ্কর সত্য সামনে এল – এবেলা

মাঠে দৌড়চ্ছিলেন, হঠাৎই থেমে গেল সব… সুস্থ ক্রিকেটারের মৃত্যুতে যে ভয়ঙ্কর সত্য সামনে এল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ফিটনেসই শেষ কথা নয়, ৩৯ বছর বয়সেই মাঠের মধ্যে নিভে গেল ভারতীয় ক্রিকেটারের জীবনদীপ! এই মর্মান্তিক ঘটনাটি আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে শরীরের বাইরের ফিটনেস সব সময় হৃদযন্ত্রের ভেতরের বাস্তব ছবি তুলে ধরে না। কর্নাটকের প্রাক্তন ক্রিকেটার এসএল অক্ষয় যখন বল হাতে ছন্দে ছিলেন, ঠিক তখনই হঠাৎ অস্বস্তি বোধ করেন এবং মাঠেই লুটিয়ে পড়েন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। নিয়মিত খেলাধুলো করা ও অত্যন্ত সক্রিয় একজন অ্যাথলেটের এই আকস্মিক মৃত্যু সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ক্রীড়ামহলেও গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

লুকিয়ে থাকা সাইলেন্ট প্ল্যাক ও হৃদরোগের কারণ

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, জিম, ডায়েট কিংবা নিয়মিত শরীরচর্চা করলেও অনেক সময় শরীরের ভেতর নিঃশব্দে কিছু বিপজ্জনক সমস্যা তৈরি হতে থাকে। এর প্রধান কারণ হতে পারে ধমনিতে ‘সাইলেন্ট প্ল্যাক’ বা চর্বি, কোলেস্টেরল ও ক্যালসিয়াম জমে রক্তনালী সরু হয়ে যাওয়া। ফিট মানুষদের শরীর অনেক সময় এই সমস্যাকে সাময়িকভাবে সামলে নেয় বলে কোনো স্পষ্ট উপসর্গ বাইরে থেকে বোঝা যায় না। তবে অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম, মানসিক চাপ, কম ঘুম বা পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবে হঠাৎ সেই প্ল্যাক ফেটে গিয়ে প্রাণঘাতী ব্লকেজ বা সাডেন কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের রূপ নিতে পারে। এ ছাড়া জিনগত প্রবণতা, অস্বাভাবিক কোলেস্টেরল, লুকিয়ে থাকা উচ্চ রক্তচাপ এবং অনিয়মিত হৃদস্পন্দনও এই ঝুঁকির অন্যতম কারণ।

ঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসকদের পরামর্শ

চিকিৎসকেরা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে হার্ট অ্যাটাক এবং সাডেন কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এক নয়। হার্ট অ্যাটাকে রক্ত চলাচলে বাধা তৈরি হয়, আর সাডেন কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক ছন্দ আচমকা ভেঙে পড়ে। এই পরিস্থিতি এড়াতে বুকে চাপ বা অস্বস্তি, সামান্য পরিশ্রমে হাঁপিয়ে যাওয়া, বুক ধড়ফড় করা, মাথা ঘোরা এবং অস্বাভাবিক ক্লান্তির মতো লক্ষণগুলোকে একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে ভারতীয়দের মধ্যে কম বয়সে হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি থাকায়, ৩০ বছর বয়সের পর থেকেই নিয়মিত কার্ডিয়াক স্ক্রিনিং, ইসিজি, ইকো এবং লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। শুধু বাইরে থেকে ‘ফিট’ দেখানোর চেয়ে শরীরের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্য ও নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষাই এই নীরব ঝুঁকি থেকে জীবন বাঁচাতে পারে।

Admin
  • Admin

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *