মাঠে নেই তবুও দাপট কমেনি, কৃষ্ণনগরে কি মুকুল রায়ের ছায়াযুদ্ধেই নির্ধারিত হবে জয় পরাজয়! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে এবার এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। নির্বাচনী ময়দানে প্রধান দলগুলোর প্রার্থীরা সশরীরে উপস্থিত থাকলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এমন একজন, যিনি সশরীরে প্রচারেই নেই। অসুস্থতা ও রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে তৃণমূলের একসময়ের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মুকুল রায় এবার জনসভা বা মিছিলে অনুপস্থিত। কিন্তু উত্তর কৃষ্ণনগরের অলিগলি থেকে চায়ের আড্ডা—সর্বত্রই ভোটের অঙ্ক মিলছে তাকে ঘিরেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের লড়াইটা আসলে তিন প্রার্থীর সাথে এক ‘অদৃশ্য’ চতুর্থ জনের।
তৃণমূল বনাম বিজেপি লড়াইয়ে বড় ফ্যাক্টর রায়সাহেব
একসময়ের দুঁদে এই রাজনৈতিক কৌশলী গত নির্বাচনে বিজেপি থেকে বিধায়ক হলেও পরে তৃণমূলে ফিরে আসেন। কৃষ্ণনগর উত্তরের রাজনৈতিক ডিএনএ-তে মুকুল রায়ের ভোট-মেশিনারি এতটাই শক্তিশালী যে, তিনি সরাসরি না থেকেও নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করছেন। তৃণমূল কংগ্রেস যেমন তার তৈরি করা পুরনো ঘর গুছিয়ে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে মরিয়া, তেমনই বিজেপি প্রমাণ করতে চাইছে যে গতবারের জয় ছিল নিছকই মোদী হাওয়া। তবে সাধারণ ভোটারদের মতে, রায়সাহেবের অনুগামীরা কোন দিকে পাল্লা দেবেন, তার ওপরই নির্ভর করছে শেষ হাসি।
অদৃশ্য রণকৌশলে টালমাটাল প্রার্থীরা
ঘাসফুল, পদ্ম এবং বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে প্রচার চালালেও তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে মুকুল রায়ের তৈরি করা অদৃশ্য ভোটব্যাংক। তৃণমূলের দাবি অনুযায়ী ‘চাণক্য’ এখন তাদের শিবিরে থাকলেও, বিজেপি ভোটারদের আবেগকে পুঁজি করে বেইমানির পাল্টা বয়ান খাড়া করছে। কোনো পোস্টার বা ব্যালটে নাম না থেকেও মুকুল রায়ের কৌশলই এখন কৃষ্ণনগরের সবথেকে বড় আকর্ষণ। দিনশেষে প্রার্থীরা লড়ছেন ঠিকই, কিন্তু আড়ালে চলা এই ছায়াযুদ্ধই পাল্টে দিতে পারে সব হিসেব।
এক ঝলকে
- কৃষ্ণনগর উত্তরে সশরীরে প্রচার না করেও মুকুল রায়ের ‘অনুপস্থিতি’ই মূল আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
- প্রার্থীরা তিনটি শিবিরের হলেও লড়াইয়ের মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করছে মুকুল রায়ের তৈরি ভোট-মেশিনারি ও অনুগামীরা।
- তৃণমূল ও বিজেপি উভয়েই মুকুল রায়ের প্রভাবকে নিজেদের পক্ষে টানতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।
- শেষ পর্যন্ত ‘চাণক্য’ রাজনীতির সমীকরণ কার পক্ষে যায়, তার ওপরই নির্ভর করছে কৃষ্ণনগরের ভাগ্য।
