মীর জাফরের বংশধর ‘ছোটে নবাব’ সৈয়দ মুহাম্মদ রেজা আলি মির্জা-সহ পরিবারের ১৫০-র বেশি সদস্যের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ

মুর্শিদাবাদের ইতিহাসখ্যাত মীর জাফরের বংশধর তথা বর্তমানের ‘ছোটে নবাব’ সৈয়দ মুহাম্মদ রেজা আলি মির্জা এবং তাঁর পরিবারের দেড়শোরও বেশি সদস্যের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে মুর্শিদাবাদের রাজকীয় ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার বহন করা এই পরিবারের নাম ভোটার তালিকা থেকে আকস্মিকভাবে মুছে যাওয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনিক নথিতে এই নাম বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই এলাকায় নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছে।
সৈয়দ মুহাম্মদ রেজা আলি মির্জা ও তাঁর আত্মীয়দের দাবি, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে আসছেন এবং তাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় সমস্ত পরিচয়পত্র ও নথি রয়েছে। তা সত্ত্বেও কীভাবে এত বড় সংখ্যক সদস্যের নাম তালিকা থেকে বাদ গেল, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। বংশপরম্পরায় মুর্শিদাবাদের কেল্লা নিজামত ও সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী এই পরিবারের জন্য এটি একটি অপ্রত্যাশিত আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় মহলে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। মীর জাফরের বংশধরদের মতো একটি পরিচিত পরিবারের এত সংখ্যক সদস্যের নাম ভোটার তালিকায় না থাকা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই বিষয়টি নিয়ে তাঁরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হবেন এবং পুনরায় ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা এখনও পাওয়া না গেলেও, স্থানীয় স্তরে ভোটার তালিকা সংশোধন ও যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার ত্রুটির কারণেই এমনটা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে ছোটে নবাব এবং তাঁর বিশাল পরিবারের সদস্যরা নিজেদের ভোটাধিকার ফিরে পেতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন। ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলেও বিশেষ আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
