‘মুখে বা শিরায় কোনও ওষুধ নয়!’ অনশনরত সোনমকে জোর করে হাসপাতালে ভর্তির পরেই বিস্ফোরক স্ত্রী – এবেলা

‘মুখে বা শিরায় কোনও ওষুধ নয়!’ অনশনরত সোনমকে জোর করে হাসপাতালে ভর্তির পরেই বিস্ফোরক স্ত্রী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নিট (NEET) কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে জোর করে হাসপাতালে ভর্তি করল দিল্লি পুলিশ। আর এরপরেই চিকিৎসকদের কাছে এক জরুরি ও বিস্ফোরক আর্জি জানালেন সোনমের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো।

কী আর্জি স্ত্রীর? দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে সোনমকে। এক্স (X) হ্যান্ডেলে গীতাঞ্জলি চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর, পরিবারের এবং গত ২০ দিন ধরে সোনমের চিকিৎসায় থাকা নিজস্ব চিকিৎসকদের পূর্বানুমতি ছাড়া যেন সোনমকে মুখে বা শিরায় কোনও ওষুধ না দেওয়া হয়।

যন্তর মন্তরে তুলকালাম ও পুলিশের দাবি: শনিবার সকালে আচমকাই যন্তর মন্তর থেকে সোনমকে তুলে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ। এরপর গোটা বিক্ষোভস্থল প্রচুর পুলিশ দিয়ে ঘিরে ফেলে খালি করে দেওয়া হয়। পুলিশের দাবি, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শেই স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কায় তাঁকে হাসপাতালে সরানো হয়েছে। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি এমার্জেন্সি ওয়ার্ডে চিকিৎসকদের কড়া পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

ফুঁসছে বিরোধীরা, লাঠিচার্জের অভিযোগ: দিল্লি পুলিশের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করেছে বিরোধী শিবির। আপ নেতা মণীশ সিসোদিয়া থেকে শুরু করে তৃণমূলের সাগরিকা ঘোষ এবং সমাজবাদী পার্টির ডিম্পল যাদব— সকলেই সরব হয়েছেন। সিজেপি (CJP) নেতা অভিজিৎ দিপকের অভিযোগ, সোনমকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং বিক্ষোভস্থলে পড়ুয়াদের ওপর লাঠিচার্জও করেছে পুলিশ। যদিও পুলিশের তরফে লাঠিচার্জের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

আন্দোলনের প্রেক্ষাপট: দেশজুড়ে নিট প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় বেনিয়মের অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে টানা অনশন করছিলেন সোনম। আগামী ২০ জুলাই সংসদ ঘেরাওয়ের ডাকও দিয়েছিলেন তাঁরা। বৃহস্পতিবারই দিল্লি হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, সোনমের স্বাস্থ্যের ওপর প্রতিদিন নজর রাখতে হবে এবং জীবন বাঁচাতে সরকারি চিকিৎসকদের পরামর্শে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সেই নির্দেশের ভিত্তিতেই এদিন পদক্ষেপ করে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *