মুর্শিদাবাদের নবাবি ঐতিহ্যের অবমাননা রুখতে কড়া কলকাতা হাইকোর্ট, কেন্দ্রকে নোটিশ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মুর্শিদাবাদের শতাব্দী প্রাচীন নবাবি স্থাপত্য ও ঐতিহ্যের রক্ষণাবেক্ষণে চরম গাফিলতির অভিযোগে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিশেষ করে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ বা এএসআই-এর অধীনে থাকা মসজিদ ও কবরস্থানগুলোর কর্মীদের নামমাত্র মাসিক বেতন দেখে রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। বর্তমান অগ্নিমূল্যের বাজারে কীভাবে এই যৎসামান্য অর্থে কর্মীরা জীবনধারণ করছেন, সেই প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রীয় সরকারকে কড়া নোটিশ পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বেতন বৈষম্য ও ঐতিহ্যের সংকট
মামলাকারীদের অভিযোগ, নবাবি আমলের অমূল্য সম্পদগুলো আগলে রাখার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা দীর্ঘকাল ধরে অমানবিক বেতন কাঠামোয় কাজ করছেন। অভিযোগ উঠেছে যে, কেন্দ্রীয় সরকারের তালিকাভুক্ত এই প্রত্নতাত্ত্বিক সাইটগুলোতে ন্যূনতম মজুরি আইনের শর্তও মানা হচ্ছে না। রক্ষণাবেক্ষণকারীদের এই চরম আর্থিক অনটনের ফলে ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ও পরিচর্যা বিঘ্নিত হচ্ছে, যা পরোক্ষভাবে বাংলার ইতিহাস ও পর্যটন অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেন্দ্রের দায়বদ্ধতা ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
যেহেতু হাজারদুয়ারি, কাটরা মসজিদ বা খুশবাগের মতো ঐতিহাসিক কেন্দ্রগুলো সরাসরি কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণাধীন, তাই এর দায় দিল্লি এড়াতে পারে না বলে পর্যবেক্ষণ আদালতের। যথাযথ পারিশ্রমিক ও সম্মান না দিলে কোনোভাবেই এই স্থাপত্যগুলোর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। এই প্রেক্ষিতে পুরাতত্ত্ব বিভাগ উক্ত সাইটগুলোর জন্য কত টাকা বরাদ্দ করছে এবং কর্মীদের বেতন পরিকাঠামো উন্নয়নে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা হলফনামা আকারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের এই কঠোর অবস্থানের ফলে মুর্শিদাবাদের প্রাচীন স্থাপত্যগুলোর শ্রী ফিরবে এবং অবহেলিত কর্মীদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী শুনানিতে কেন্দ্রের জবাবের ওপরই নির্ভর করছে এই ঐতিহ্যের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা।
এক ঝলকে
- মুর্শিদাবাদের নবাবি স্থাপত্যের রক্ষণাবেক্ষণকারীদের নামমাত্র বেতনে ক্ষোভ প্রকাশ কলকাতা হাইকোর্টের।
- এএসআই-এর অধীনে থাকা কর্মীদের বেতন কাঠামো নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে কড়া নোটিশ ও হলফনামা তলব।
- ঐতিহাসিক মসজিদ ও কবরস্থানগুলোর বেহাল দশা এবং ন্যূনতম মজুরি না পাওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখছে আদালত।
- পর্যটন ও ঐতিহ্যের স্বার্থে বরাদ্দ এবং বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে কেন্দ্রের স্পষ্ট জবাব চেয়েছে বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চ।
