মৃত্যুর ঠিক আগে মানুষের কানে কোন শব্দগুলো পৌঁছায়, সেই রহস্য উন্মোচন করলেন মৃত্যুর পর ফিরে আসা ব্যক্তিরা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মৃত্যু এক অমীমাংসিত রহস্য। মৃত্যুর পরবর্তী জগত নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই। তবে সম্প্রতি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের ওপর চালানো একটি গবেষণা বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলেছে। কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট থেকে বেঁচে ফেরা রোগীরা দাবি করেছেন যে, হৃদস্পন্দন থেমে যাওয়ার পরও তারা ডাক্তারদের কথা শুনতে পাচ্ছিলেন।
মৃত্যুর মুহূর্তে সক্রিয় থাকে শ্রবণশক্তি
সাধারণত ধারণা করা হয় যে হৃদপিণ্ড বন্ধ হয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই মানুষের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা শেষ হয়ে যায়। কিন্তু এই গবেষণায় অংশ নেওয়া কয়েকশ রোগীর অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। প্রায় ৪০ শতাংশ রোগী জানিয়েছেন যে, যখন তাদের সিপিআর (CPR) দেওয়া হচ্ছিল, তখনো তারা কোনো না কোনোভাবে সচেতন ছিলেন। অনেকে দাবি করেছেন যে ডাক্তার যখন তাদের মৃত ঘোষণা করার জন্য ‘টাইম অফ ডেথ’ বা ‘হি ইজ গন’ (সে চলে গেছে) বলছিলেন, তখনো তারা সেই শব্দগুলো স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছিলেন।
শরীরের বাইরে থেকে নিজেকে দেখার অভিজ্ঞতা
গবেষণায় অংশ নেওয়া কিছু রোগী আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তাদের মতে, তারা কেবল কথা শোনেননি, বরং তাদের মনে হয়েছে তারা নিজেদের শরীরের বাইরে চলে এসেছেন এবং ওপর থেকে সব দেখছেন। চিকিৎসকরা তাদের বাঁচানোর জন্য কী কী চেষ্টা করছেন, এমনকি আশেপাশে কী ধরনের যন্ত্রপাতি শব্দ করছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দিয়েছেন এই রোগীরা। এটি প্রমাণ করে যে ক্লিনিক্যালি মৃত ঘোষিত হওয়ার পরও মানুষের চেতনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় না।
হৃদস্পন্দন থামার পর মস্তিষ্কের কার্যকারিতা
চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, হৃদপিণ্ড কাজ করা বন্ধ করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই মস্তিষ্ক স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা। তবে এই গবেষণায় দেখা গেছে:
- হৃদস্পন্দন থামার পরও মস্তিষ্ক কিছু সময়ের জন্য সক্রিয় থাকতে পারে।
- এই সময় মস্তিষ্কে এমন কিছু তরঙ্গ দেখা যায় যা গভীর চিন্তা বা মনোযোগের সাথে সম্পর্কিত।
- মৃত্যুর আগের এই অবস্থাকে বিজ্ঞানীরা ‘সুপার-ফোকাসড স্টেট’ হিসেবে অভিহিত করছেন, যেখানে শ্রবণশক্তি আরও প্রখর হয়ে ওঠে।
বিজ্ঞান ও চেতনার নতুন দিগন্ত
এই গবেষণাটি জীবন ও মৃত্যুর মধ্যকার সীমানাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, মৃত্যু কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং একটি মন্থর প্রক্রিয়া। এক রোগীর বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি চিকিৎসকদের আলোচনার প্রতিটি শব্দ মনে রাখতে পেরেছিলেন যখন তারা তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলছিলেন। এই বিষয়গুলো ইঙ্গিত দেয় যে মৃত্যুর অন্তিম মুহূর্তেও মানুষের মস্তিষ্ক একটি বিশেষ স্তরে সক্রিয় থাকে এবং আশেপাশের পরিবেশের সংকেত গ্রহণ করতে পারে।
এক ঝলকে
- শ্রবণ ক্ষমতা: হৃদস্পন্দন থামার পরেও মানুষের কান কিছু সময়ের জন্য সচল থাকে।
- ডাক্তারদের কথা: রোগীরা তাদের নিজেদের মৃত্যুর সময় বা মৃত ঘোষণার শব্দগুলো শুনতে পান।
- সচেতনতা: কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট থেকে ফিরে আসা ৪০ শতাংশ মানুষ সিবিআর চলাকালীন সচেতন থাকার কথা জানিয়েছেন।
- আউট-অফ-বডি এক্সপেরিয়েন্স: কিছু মানুষ দাবি করেছেন তারা নিজেদের শরীরের বাইরে থেকে পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়াটি দেখেছেন।
- মস্তিষ্কের তরঙ্গ: মৃত্যুর ঠিক আগে বা মুহূর্তে মস্তিষ্ক একটি অত্যন্ত সক্রিয় বা ‘সুপার-ফোকাসড’ অবস্থায় থাকে।
