মৃত্যুর মিছিল রুখতে পারে রোজকার ডায়েটের চার ফল! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মহিলাদের মধ্যে স্তন ক্যানসারের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, ভারতে প্রতি আট মিনিটে একজন মহিলা এই মারাত্মক রোগে প্রাণ হারাচ্ছেন। স্তনের কোষ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে টিউমার তৈরির মাধ্যমে এই রোগের সূচনা হয়, যা সময়মতো চিকিৎসা না হলে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। তবে চিকিৎসকদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণের পাশাপাশি সঠিক খাদ্যাভ্যাস এই মারণব্যাধির ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞান সংক্রান্ত গবেষণা বলছে, নিয়মিত ফল খাওয়ার অভ্যাস স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ৭ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস করতে সক্ষম।
ফলের মধ্যে থাকা ফাইবার এবং বিশেষ কিছু ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস যেমন— পলিফেনল, অ্যান্থোসায়ানিন, ফিসেটিন, কোয়ার্সেটিন ও হেসপেরিডিন ক্যানসার প্রতিরোধে মূল ভূমিকা পালন করে। এমন চারটি ফলের কার্যকারিতা নিচে আলোচনা করা হলো।
ঝুঁকি কমাতে ৪ ফলের জাদু
উপকারী পলিফেনলে ভরপুর আপেল স্তন ক্যানসারের বিস্তার রোধে অত্যন্ত কার্যকর। আপেলে থাকা কোয়ার্সেটিন নামক উপাদানটি ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি এবং টিউমার ছড়ানো সরাসরি আটকে দেয়। তবে বিশেষ উপকার পেতে আপেল খোসাসহ খাওয়া উচিত, কারণ এর খোসায় থাকা ট্রাইটারপেনয়েডস টিউমারের বৃদ্ধিকে ধীর করে দেয়। ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি ও ব্ল্যাকবেরির মতো বেরি জাতীয় ফলও পুষ্টিগুণে অনন্য। এগুলিতে থাকা অ্যান্থোসায়ানিন এবং ফ্ল্যাভোনয়েড ক্যানসার কোষের বিস্তার রোধ করে, যার মধ্যে ডেলফিনিডিন নামক উপাদানটি টিউমারের বৃদ্ধি রুখতে বিশেষভাবে কার্যকর।
লাল টকটকে চেরিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্থোসায়ানিন, ভিটামিন সি, পটাসিয়াম এবং ফাইবার। এর প্রদাহ-বিরোধী বা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য ক্যানসার প্রতিরোধে ঢাল হিসেবে কাজ করে। এছাড়া কিশমিশ, খেজুর, ডুমুর ও আলুবখরার মতো শুকনো ফল বা ড্রাই ফ্রুটসও এই তালিকায় সমান গুরুত্বপূর্ণ। এগুলির পলিফেনল ও ফ্ল্যাভোনয়েড ক্যানসার কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি আটকে শরীরের সুরক্ষাবলয় তৈরি করে।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
মূলত অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, পুষ্টির অভাব এবং কোষের জিনগত পরিবর্তনের কারণে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। খাদ্যাভ্যাসে এই ফলগুলি অন্তর্ভুক্ত করার ফলে শরীরে শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট প্রবেশ করে, যা ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতি এবং কোষের অস্বাভাবিক রূপান্তর প্রতিরোধ করে। এর সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব হিসেবে নারীদের মধ্যে স্তন ক্যানসারের সার্বিক আক্রান্তের হার হ্রাস পাবে এবং সঠিক পুষ্টির মাধ্যমে মৃত্যুর হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
