মেধায় উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন, নতুন সরকারের কাছে স্বচ্ছতা ও কর্মসংস্থানের আর্জি কৃতীদের – এবেলা

মেধায় উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন, নতুন সরকারের কাছে স্বচ্ছতা ও কর্মসংস্থানের আর্জি কৃতীদের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

উচ্চমাধ্যমিকের মেধাতালিকায় এ বছর জায়গা করে নিয়েছে একঝাঁক তরুণ তুর্কি। চোখধাঁধানো মার্কশিট আর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন থাকলেও, এই কৃতীরা বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে যথেষ্ট সচেতন। রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে নতুন সরকারের কাছে তাদের দাবি কেবল নিজের ক্যারিয়ার নয়, বরং সামগ্রিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন। বিশেষ করে দুর্নীতিমুক্ত শাসন, প্রশ্ন ফাঁস রোধ এবং মেধার যোগ্য মর্যাদা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরব হয়েছে আগামীর এই কাণ্ডারীরা।

দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার দাবি

উচ্চমাধ্যমিকে রাজ্যে দ্বিতীয় স্থানাধিকারী ঐতিহ্য পাচাল ভবিষ্যতে আইএএস হওয়ার স্বপ্ন দেখে। তবে তার লক্ষ্যের মূলে রয়েছে দেশের অর্থনৈতিক পরিকাঠামোর উন্নতি এবং সমাজ থেকে দুর্নীতি দূর করা। ঐতিহ্যের মতে, সরকারি সুবিধাগুলো প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা একান্ত প্রয়োজন। অন্যদিকে, মেধার সঠিক মূল্যায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রশ্ন ফাঁসের মতো ঘটনা। নিট (NEET) পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কৃতী ছাত্র সৌম্য রায় সাফ জানিয়েছে, দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থার পাশাপাশি রাজ্যে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করা সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

রাজনীতিমুক্ত শিক্ষাঙ্গন ও কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা

কৃতীদের একটি বড় অংশের দাবি হলো শিক্ষাক্ষেত্রকে রাজনীতির প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখা। ষষ্ঠ স্থানাধিকারী সৌমাল্য রুদ্র স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, শিক্ষাক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ হলে শিক্ষার গুণমান বৃদ্ধি পাবে। রাশিবিজ্ঞান নিয়ে পড়তে ইচ্ছুক এই ছাত্রের ইচ্ছা রাজ্যের মাটিতেই কাজ করার। তবে এর জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি বলে সে মনে করে। একই সুর শোনা গেছে নবম স্থানাধিকারী অরিত্র দুয়ারির কণ্ঠেও। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গবেষণায় আগ্রহী অরিত্র মনে করে, রাজ্যে কাজের সুযোগ থাকলে মেধাবীদের ভিনরাজ্যে বা বিদেশে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতা কমবে।

প্রভাব ও সম্ভাবনা

কৃতী ছাত্রছাত্রীদের এই দাবিগুলো স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, বর্তমান প্রজন্মের মেধাবীরা কেবল পুঁথিগত বিদ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। তারা চায় এমন এক সুস্থ পরিবেশ, যেখানে স্বজনপোষণ বা দুর্নীতির বদলে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হবে। সরকারের জন্য এই দাবিগুলো একাধারে যেমন বড় চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে তেমনি রাজ্যের মেধা ধরে রাখার জন্য এক সুবর্ণ সুযোগ। সময়মতো শিল্পায়ন ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া কার্যকর না হলে মেধাবীদের এই বিদেশমুখী হওয়া রোখা কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *