মেধা প্রতারণার অবসান, নিয়োগের দাবিতে নবান্নের নতুন জমানায় শমীকের বড় আশ্বাস – এবেলা

মেধা প্রতারণার অবসান, নিয়োগের দাবিতে নবান্নের নতুন জমানায় শমীকের বড় আশ্বাস – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং নবান্নের অলিন্দে নতুন সরকার আসতেই দীর্ঘদিনের বঞ্চিত ও অবহেলিত চাকরিপ্রার্থীরা নতুন করে সুরাহার আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছেন। সোমবার কলকাতার বিজেপি রাজ্য দফতরে এসে সুরাহার দাবিতে সোচ্চার হন রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীদের একটি বড় অংশ। বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্যানেলে নাম থাকা সত্ত্বেও দুর্নীতির কারণে নিয়োগ না পাওয়ার ক্ষোভ উগড়ে দেন তাঁরা। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট দাবি, রাজ্যে নতুন জমানা আসায় এবার তাঁদের আটকে থাকা নিয়োগপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হোক।

চাকরিপ্রার্থীদের অভাব-অভিযোগ মন দিয়ে শোনার পর রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তাঁদের তাড়াহুড়ো না করার পরামর্শ দেন। তিনি জানান, জুনের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠিত হয়ে যাবে এবং তার পরেই আটকে থাকা সমস্ত কাজ সহানুভূতির সঙ্গে সম্পন্ন করবে সরকার। বিগত সরকারের আমলের শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতি নিয়ে সুর চড়িয়ে তিনি বলেন, যোগ্য মানুষের মেধা প্রতারিত হয়েছে এবং চাকরি বিক্রি হয়েছে। দলের তরফে তিনি বিষয়টি সরকারকে জানাবেন বলে নিশ্চিত করেন।

শুভেন্দুর ‘জনতার দরবার’ এবং চাকরিপ্রার্থীদের ভিড়

সোমবার সকালে সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শয়ে শয়ে মানুষ এসে উপস্থিত হন। তবে এদিনের দরবারে সবথেকে বেশি নজর কাড়ে চাকরিহারা এবং বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের ভিড়। নিয়োগ দুর্নীতি মামলার জেরে রাজ্যে হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ এখন অথৈ জলে। সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে একে একে সকলের অভাব-অভিযোগ শোনেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

সেখানে ২০১৬ সালের প্যানেলের বঞ্চিত শিক্ষক ও চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিনিধিদের পক্ষে সুমন বিশ্বাস জানান, তাঁরা চান যোগ্যতার ভিত্তিতে যোগ্যদের চাকরি দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া হোক। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ঔদ্ধত্য এবং যুবকদের অবজ্ঞা করার পরিণাম রাজ্য দেখেছে।

ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

বিগত সরকারের আমলে শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি ও মেধা প্রতারণার কারণেই হাজার হাজার যোগ্য প্রার্থী বছরের পর বছর ধরে রাজপথে আন্দোলন করতে বাধ্য হয়েছেন। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এই বিপুল সংখ্যক বঞ্চিত যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা নতুন সরকারের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা দরকার, কারণ বিরোধী দলনেতা হিসেবে তিনি গত পাঁচ বছর ধরে এই বঞ্চিত ও প্রতারিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। জুনে মন্ত্রিসভা গঠনের পর সরকার এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয় এবং কীভাবে এই দীর্ঘদিনের জটিল জট কাটায়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *