‘মেয়েদের স্কার্ট নয়, ফুলপ্যান্ট-সালোয়ার পরান’: ডেঙ্গি আবহে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নিদানে চর্চা – এবেলা

‘মেয়েদের স্কার্ট নয়, ফুলপ্যান্ট-সালোয়ার পরান’: ডেঙ্গি আবহে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নিদানে চর্চা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যে ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়তে থাকার মাঝেই শুরু হলো নতুন এক বিতর্ক, যার কেন্দ্রে রয়েছে স্কুল পড়ুয়াদের পোশাকবিধি। আগামী সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর—এই তিন মাস ডেঙ্গির ঝুঁকি এড়াতে ছাত্র-ছাত্রীদের পোশাক বদলের আর্জি জানিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তবে তাঁর এই পরামর্শ ঘিরে অভিভাবক ও চিকিৎসকদের একাংশের মধ্যে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য: স্কুল ইউনিফর্ম নিয়ে আবেদন জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “দয়া করে মেয়েদের স্কার্ট পরিয়ে স্কুলে পাঠাবেন না। তাদের পা ঢাকা সালোয়ার পরতে দিন। হাঁটু পর্যন্ত পাতলা মোজায় মশার কামড় আটকানো যায় না। পাশাপাশি, ছেলেদেরও ফুলপ্যান্ট এবং ফুলশার্ট পরে স্কুলে পাঠানো দরকার।” আগামী তিন মাস এই নিয়ম মেনে চলতে অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান তিনি।

চিকিৎসকমহলে মতভেদ: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই চিকিৎসকদের মধ্যে দু’টি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি দেখা গেছে:

  • উৎস নির্মূলের ওপর জোর: অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথ সার্ভিস ডক্টরসের সম্পাদক ডা. উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, মশার কামড় থেকে বাঁচতে শরীর ঢাকা পোশাক উপকারী হলেও এটাই ডেঙ্গি প্রতিরোধের একমাত্র উপায় নয়। মশার বংশবৃদ্ধি রোধ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং উপযুক্ত চিকিৎসা পরিকাঠামো গড়ে তোলাই আসল সমাধান। এছাড়া নাগরিকের পোশাকের ওপর রাষ্ট্রীয় পরামর্শ কেবল স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থার খাতিরে সাময়িকভাবে মেনে নেওয়া যেতে পারে, তবে স্থায়ী সমাধান এতে আসবে না।
  • চিকিৎসাবিজ্ঞানের সমর্থন: বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. রুদ্রজিৎ পাল স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের দিক থেকে এই পরামর্শ যুক্তিসঙ্গত। ফুলহাতা পোশাক পরলে মশার কামড়ের সম্ভাবনা কমে, ফলে ডেঙ্গির ঝুঁকিও হ্রাস পায়। তবে পোশাকের পাশাপাশি জল জমতে না দেওয়া ও মশারি ব্যবহারের নিয়মও মেনে চলতে হবে।
  • সুরক্ষার সপক্ষে যুক্তি: মেডিভিশন দক্ষিণবঙ্গের কনভেনর মানস বর্মণ জানান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেও একজন চিকিৎসক এবং তিনি পড়ুয়াদের সুরক্ষার কথা ভেবেই ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে এই পরামর্শ দিয়েছেন। তাই এটিকে নিয়ে অনর্থক বিতর্ক তৈরি করা অনুচিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *