মেয়ের বিচারের লড়াই এবার বিধানসভায়, রত্না দেবনাথের জয়ে কৌশলী অবস্থানে অভয়া মঞ্চ

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে জলহাটি কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন আরজি করের নিহত চিকিৎসকের মা তথা বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথ। এই জয়ের পর রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন বামপন্থী মনোভাবাপন্ন অভয়া মঞ্চ রত্না দেবনাথের সরাসরি পাশে না থাকলেও, ফলাফলের পর তাঁকে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছে তারা। তবে এই শুভেচ্ছার সঙ্গেই মঞ্চের পক্ষ থেকে একটি কঠিন শর্ত বা প্রস্তাব ছুড়ে দেওয়া হয়েছে— এবার নিজেদের দলের কাছ থেকেই মেয়ের হত্যার বিচার আদায় করে দেখান তিনি।
ভোটের সমীকরণ ও অভয়া মঞ্চের ভূমিকা
আরজি কর কাণ্ডের পর এটিই ছিল রাজ্যের প্রথম বড় নির্বাচন। জলহাটিতে লড়াই ছিল মূলত ত্রিমুখী। তৃণমূল কংগ্রেসের তীর্থঙ্কর ঘোষ এবং সিপিএমের কলতান দাশগুপ্তের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন রত্না দেবনাথ। নির্বাচনের আগে অভয়া মঞ্চের সমর্থন পরোক্ষভাবে বাম প্রার্থী কলতানের দিকে থাকলেও, শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষ নিহত চিকিৎসকের মাকেই বেছে নিয়েছেন। আন্দোলনের শুরু থেকেই রত্না দেবনাথের বিজেপি যোগ নিয়ে অভয়া মঞ্চের অন্দরে অস্বস্তি ছিল। উন্নাও বা হাথরসের মতো ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তারা বারবার রত্না দেবনাথকে সতর্ক করার চেষ্টা করেছে। এমনকি অতীতে নির্যাতিতার বাবা-মায়ের ডাকা কর্মসূচির বদলে নিজস্ব কর্মসূচি পালন করে তারা এক ধরনের দূরত্ব বজায় রেখেছিল।
ন্যায়বিচারের দাবিতে নতুন চাপ
বিজেপির টিকিটে রত্না দেবনাথের এই জয়কে অভয়া মঞ্চ ‘ন্যায়বিচারের আন্দোলনের জয়’ হিসেবেই দেখছে। তবে তাদের দাবি, এবার বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আরজি কর কাণ্ডের প্রকৃত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। মঞ্চের আহ্বায়ক তমোনাশ চৌধুরীর মতে, ভিন রাজ্যে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের প্রতি বিজেপি সরকারের নমনীয় মনোভাবের যে ইতিহাস রয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি যেন এখানে না ঘটে।
নির্বাচনী ফলাফলের এই প্রভাব রাজ্য রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী হতে পারে। একদিকে রত্না দেবনাথের জয় যেমন শাসকদলের জন্য বড় ধাক্কা, তেমনই বিজয়ী প্রার্থীর জন্য এটি ব্যক্তিগত শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে বিচার ছিনিয়ে আনার এক অগ্নিপরীক্ষা। আগামী দিনে রত্না দেবনাথের রাজনৈতিক অবস্থান এবং বিচারের দাবিতে তাঁর দলের ভূমিকা কী হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।
