মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে বিশৃঙ্খলা মামলার শুনানিতে চরম ভর্ৎসিত প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী, জারি একগুচ্ছ নিষেধাজ্ঞা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
গত বছর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বিশ্ববিখ্যাত ফুটবলার লিওনেল মেসির অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া চরম বিশৃঙ্খলা ও অনিয়মের মামলায় সাময়িক স্বস্তি পেলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনো রকম কঠোর বা দমনমূলক পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য বিধাননগর পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে আইনি রক্ষাকবচ পেলেও আদালতের তীব্র ভর্ৎসনা ও কড়া প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে।
আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ ও ক্ষোভ
শুনানির সময় যুবভারতীতে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, সেদিনের ঘটনার জন্য সবাই লজ্জিত। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে মেসিকে মাঝপথেই স্টেডিয়াম ছাড়তে হয়েছিল। দেশের অন্য তিন জায়গায় অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও কলকাতায় কেন এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হলো, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত। প্রাক্তন মন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিচারপতি বলেন, “অরূপ বিশ্বাস কি মেসির বাল্যবন্ধু? তাঁর এত কাছে গেলেন কেন?” তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে তাঁর সময়ে মাঠে ক্ষমতার অতিরিক্ত ভিড় কেন হয়েছিল, তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে হাইকোর্ট আগামী শুনানির আগে গোটা ঘটনার একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ও তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ
আদালত এই অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষার পাশাপাশি প্রাক্তন মন্ত্রীর বিদেশযাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তাঁকে আগামী সাত দিনের মধ্যে ট্রায়াল কোর্টে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি থানা এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে বিধাননগর পুলিশের পাঠানো পরপর দুটি নোটিশ এড়িয়ে গিয়েছিলেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী। এই প্রসঙ্গে আদালত সাফ জানিয়েছে, তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশ যদি তাঁকে আবারও তলব করতে চায়, তবে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিশ পাঠাতে হবে এবং অরূপ বিশ্বাসকে সেই নির্দেশ মেনে তদন্তকারী সংস্থার সামনে হাজিরা দিতে হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৪ঠা আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে।
পটভূমি ও বিশৃঙ্খলার কারণ
গত বছর ১৩ই ডিসেম্বর সল্টলেক স্টেডিয়ামে আয়োজিত ওই হাই-প্রোফাইল ফুটবল ইভেন্টে চরম অব্যবস্থার অভিযোগ ওঠে। অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্ত প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর বিরুদ্ধে টিকিটের কালোবাজারি, তোলাবাজি, প্রতারণা এবং অপরাধমূলক হুমকির অভিযোগ এনে একটি এফআইআর দায়ের করেন। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই গত সপ্তাহে এবং চলতি সপ্তাহের সোমবারে অরূপ বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠায় পুলিশ। গ্রেফতারি এড়াতে এরপরই আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। এই ঘটনার ফলে আন্তর্জাতিক মহলে কলকাতার ক্রীড়া ব্যবস্থাপনার ভাবমূর্তি যেমন ক্ষুণ্ণ হয়েছে, তেমনই ক্ষমতার অপব্যবহার ও অব্যবস্থার বিষয়টিও আইনি তদন্তের আওতায় চলে এসেছে।
