মোদীর মন্ত্রিসভায় তৃণমূলের বিদ্রোহীরা! ২০ সাংসদ নিয়ে NDA-র দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক NCPI – এবেলা

মোদীর মন্ত্রিসভায় তৃণমূলের বিদ্রোহীরা! ২০ সাংসদ নিয়ে NDA-র দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক NCPI – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নয়াদিল্লি ও কলকাতা: বাংলায় লোকসভা ভোটের পর এবার দিল্লির রাজনীতিতে মহানাটকীয় মোড়! তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)-তে যোগ দিতেই ভোলবদল হয়ে গেল জাতীয় রাজনীতির সমীকরণের। এই মুহূর্তে নরেন্দ্র মোদী সরকারের এনডিএ (NDA) জোটে বিজেপির (২৪০ আসন) পরেই দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক দল হয়ে উঠেছে এনসিপিআই। চন্দ্রবাবু নাইডুর টিডিপি (১৬) এবং নীতীশ কুমারের জেডিইউ (১২)-কে টপকে ২০ জন সাংসদ নিয়ে এক ধাক্কায় কিং-মেকারের ভূমিকায় চলে এলেন বাংলার দলত্যাগী সাংসদরা।

এই চরম রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝেই রাজধানীতে এখন জোর গুঞ্জন— এনসিপিআই থেকে এক বা একাধিক সাংসদ মোদী মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেতে চলেছেন। একটি পূর্ণমন্ত্রী এবং একটি প্রতিমন্ত্রীর পদ পেতে পারেন বিদ্রোহীরা। পাশাপাশি বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিনেতা-সাংসদ দীপক অধিকারী (দেব)-এর জন্য ওয়াই (Y) ক্যাটিগরির কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দেওয়ার আলোচনাও শুরু হয়েছে।

‘শুভেন্দুকে পরামর্শ দিতে পারি’, বিস্ফোরক সুদীপ; তোপ শতাব্দীর

দিল্লিতে এনসিপিআই-এর আলাদা সংসদীয় অফিস তৈরির তোড়জোড় শুরু হতেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, “পার্লামেন্ট খুললে আমরা ২০ জন এনসিপিআই-এর সাংসদ হিসেবেই থাকব। তৃণমূলের সিংহভাগ সাংসদ আমাদের দিকেই আছেন।” এমনকি বাংলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, “বাংলায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও যদি সিনিয়র হিসেবে আমার পরামর্শ চান, দাদা হিসেবে তাঁকে সাহায্য করতে পারি।”

তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র নিশানা করে বিদায়ী সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, “একটা পরিবার যখন ভেঙে যায়, তখন পরিবারের হেডের দায়িত্ব থাকে সবাইকে নিয়ে চলার। কেন এটা হচ্ছে, সেই খোঁজ কি নেওয়া হয়েছিল?” একই সুর শোনা গেছে বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তীর গলাতেও, “দল ওঁর একার নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি সব আসনে প্রার্থী ছিলেন?”

আইনি যুদ্ধের প্রস্তুতি দু’পক্ষেরই, দিল্লির ছক?

এদিকে ২০ জন সাংসদের এই দলবদলকে সম্পূর্ণ বেআইনি ও ‘ভোটারদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে তোপ দেগেছে কালীঘাট। তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় এবং সাগরিকা ঘোষের দাবি, দলত্যাগ বিরোধী আইন (১০ম তফসিল) এড়াতে ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভিও জানান, মূল দল অন্য দলের সাথে মিশে না গেলে শুধু দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ ভাঙলেই ছাড় পাওয়া যায় না।

তবে আইনি লড়াইয়ের জন্য কোমর বাঁধছে এনসিপিআই-ও। বিজেপি ঘনিষ্ঠ দিল্লির দুই শীর্ষস্তরের আইনজীবী বিদ্রোহীদের রক্ষাকবচ দিতে ঘুঁটি সাজাচ্ছেন। জুলাই মাসে সুপ্রিম কোর্ট খুললেই এই আইনি যুদ্ধ চরম আকার নিতে পারে। যদিও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সংবিধানের ১২২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদের ভেতরের কার্যপ্রক্রিয়াকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যায় না। ফলে সংসদে বিল পাসের ক্ষেত্রে মোদী সরকারকে সমর্থন জানাতে আইনি কোনো বাধা থাকবে না এই বিদ্রোহী সাংসদদের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *