যন্তর মন্তরের দিন কি শেষ? বিকল্প প্রতিবাদস্থল খোঁজার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, মেট্রো বন্ধের সিদ্ধান্তে কড়া বার্তা – এবেলা

যন্তর মন্তরের দিন কি শেষ? বিকল্প প্রতিবাদস্থল খোঁজার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, মেট্রো বন্ধের সিদ্ধান্তে কড়া বার্তা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তিন দশক ধরে জাতীয় রাজধানী দিল্লির রাজপথ কেঁপা আন্দোলন-বিক্ষোভের মূল কেন্দ্রবিন্দু যন্তর মন্তর। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের ভোগান্তি ও জরুরি পরিষেবায় ব্যাঘাত ঘটার বিষয়টি মাথায় রেখে এবার বিকল্প বিক্ষোভস্থলের সন্ধান করার পরামর্শ দিল সুপ্রিম কোর্ট।

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনায়ের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার মেনে প্রতিবাদ করার সুযোগ যেমন দিতে হবে, তেমনই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও জরুরি পরিষেবা যাতে থমকে না যায়, সে দিকেও খেয়াল রাখা জরুরি। তার জন্য একটি বড় ও আধুনিক সুবিধা সম্বলিত বিকল্প স্থান চিহ্নিত করতে দিল্লি পুলিশ কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

বিকল্প বিক্ষোভস্থলে কী কী সুবিধা থাকা বাধ্যতামূলক? সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রস্তাবিত নতুন প্রতিবাদস্থলে কিছু মৌলিক পরিকাঠামো থাকতেই হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

  • আন্দোলনকারীদের ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত শৌচাগার ও পানীয় জলের ব্যবস্থা।
  • সাময়িক বিশ্রামের জন্য পোর্টেবল কেবিন।
  • জরুরি চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল টিম ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।
  • প্রচুর মানুষের জমায়েত হলেও যাতে অ্যাম্বুলেন্স বা জরুরি পরিষেবা গাড়ি সহজে যাতায়াত করতে পারে, তার জন্য চওড়া ও উন্মুক্ত রাস্তা।

মেট্রো ও ট্রেন বন্ধের সিদ্ধান্তে কড়া সমালোচনা আগামী ১০ অক্টোবর একটি প্রস্তাবিত আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম মেট্রো ও ট্রেন চলাচলে ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল প্রশাসন। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট।

ডিভিশন বেঞ্চের প্রশ্নের মুখে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, আদালতের এই পরামর্শ তিনি দ্রুত শীর্ষ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেবেন। অন্যদিকে, প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল আদালতে জানান, আগে রামলীলা ময়দানকে বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হলেও এখন যন্তর মন্তরে অনুমতি না মিললে রামলীলা ময়দানেও সভা করতে দেওয়া হচ্ছে না। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে একটি উপযুক্ত নতুন জায়গা খুঁজে বের করার বিষয়ে আদালত সবার সম্মতি নথিভুক্ত করে।

একই সঙ্গে, সুরক্ষার অজুহাতে আমজনতার মেট্রো বা ট্রেন পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে আদালত। প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ সবসময় যুক্তিসঙ্গত হওয়া উচিত; সুরক্ষার দোহাই দিয়ে কোটি কোটি সাধারণ মানুষকে গণপরিবহন থেকে বঞ্চিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

যন্তর মন্তরের ইতিহাস ও প্রেক্ষিত ১৯৯৩ সাল থেকে যন্তর মন্তর দিল্লির মূল প্রতিবাদস্থল হয়ে ওঠে। তার আগে ইন্ডিয়া গেটের কাছে ‘বোট ক্লাব’ এলাকায় বড় বড় সমাবেশ হতো, তবে সংসদ ভবনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় তা সরিয়ে আনা হয়। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে জাতীয় পরিবেশ আদালত (NGT) শব্দদূষণ ও পথ অবরোধের কারণে যন্তর মন্তরে সব আন্দোলন নিষিদ্ধ করেছিল। তবে ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট সেই নিষেধাজ্ঞা খারিজ করে জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করেই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার বজায় রাখা সম্ভব।

সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনী তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ইস্তফার দাবিতে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে এই আইনি জট তৈরি হয়। তবে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে, নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির গুণাগুণ নয়, সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অধিকার ও সামগ্রিক পরিকাঠামো সুনিশ্চিত করাই আদালতের প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *