যাতায়াতে ঐতিহাসিক বিপ্লব! এখন গঙ্গা ও গণ্ডকের বুক চিরে চলবে যাত্রীবাহী জাহাজ – এবেলা

যাতায়াতে ঐতিহাসিক বিপ্লব! এখন গঙ্গা ও গণ্ডকের বুক চিরে চলবে যাত্রীবাহী জাহাজ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিহারের পরিবহন ব্যবস্থায় এক অভাবনীয় পরিবর্তনের সূচনা হতে চলেছে। সড়ক ও রেলপথের পর এবার ঢেলে সাজানো হচ্ছে জলপথকে। গঙ্গা এবং গণ্ডক নদীকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকার একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যার মাধ্যমে ভাগলপুর থেকে পাটনা হয়ে পশ্চিম চম্পারণ পর্যন্ত জলপথে যাতায়াত করা সম্ভব হবে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো উত্তর ও দক্ষিণ বিহারের মধ্যে একটি শক্তিশালী ও বিকল্প যোগাযোগ মাধ্যম গড়ে তোলা।

প্রান্তিক জেলাগুলোতে জলপথের সংযোগ

রাজ্যের ১১টি জেলাকে এই জলপথের আওতায় আনতে মোট ২১টি জল স্টেশন বা জেটি তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ইতিমধ্যে ১৮টি স্টেশনের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে এবং বাকি ৩টির কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে। ভোজপুর, সোনপুর, পাটনা, বৈশালী, সমস্তিপুর, বেগুসরাই, মুঙ্গেল, খাগড়িয়া, ভাগলপুর এবং পশ্চিম চম্পারণের মতো জেলাগুলো সরাসরি এই সুবিধার আওতায় আসবে। বিশেষ করে রাজধানী পাটনা এই জলপথের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে, যেখানে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন চিহ্নিত করা হয়েছে।

অর্থনীতি ও পর্যটনে নতুন দিগন্ত

এই জলপথ চালু হলে বিহারের ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্পে জোয়ার আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। সড়কপথের তুলনায় জলপথে পণ্য পরিবহন খরচ অনেক কম হওয়ায় ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন। পাশাপাশি গঙ্গার তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক শহরগুলোতে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়বে। এটি একটি পরিবেশবান্ধব বা ‘গ্রিন’ পরিবহন ব্যবস্থা হওয়ায় ভবিষ্যতে কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি সড়ক ও রেলের ওপর অতিরিক্ত চাপ অনেকটাই লাঘব করবে।

এক ঝলকে

  • বিহারের ১১টি জেলায় মোট ২১টি আধুনিক জল স্টেশন বা জেটি তৈরি করা হচ্ছে।
  • ভাগলপুর, পাটনা ও পশ্চিম চম্পারণের মধ্যে গঙ্গা ও গণ্ডক নদীপথে যাতায়াত করা যাবে।
  • প্রকল্পের ১৮টি স্টেশনের কাজ শেষ হয়েছে এবং পাটনা হতে চলেছে জলপথ পরিবহনের প্রধান জংশন।
  • এই উদ্যোগের ফলে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন খরচ কমার পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের ব্যাপক বিকাশ ঘটবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *