যাদবপুরে ‘নো-ফিডিং জোন’! কামড়ের আতঙ্কে ক্যাম্পাসজুড়ে সারমেয়-নিষেধাজ্ঞা, তুঙ্গে বিতর্ক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
যাদবপুর ক্যাম্পাসে কুকুর বিড়াল নিয়ে বেনজির নিষেধাজ্ঞা, বিতর্ক তুঙ্গে চত্বরে!
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একের পর এক কুকুরের কামড়ের ঘটনা এবং তার জেরে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা সংকট মেটাতে এক বেনজির সিদ্ধান্ত নিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু কল্যাণ কমিটির বৈঠকে ক্যাম্পাস চত্বরে পথকুকুর ও বিড়ালের অবাধ বিচরণ এবং খাওয়ানোর ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। কর্তৃপক্ষের এই কড়া পদক্ষেপের পর থেকেই এখন ক্যাম্পাসজুড়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
নিরাপত্তা বনাম পশু অধিকারের দ্বন্দ্ব
মূলত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কমিটির পর্যবেক্ষণ। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস, সল্টলেক ক্যাম্পাস এবং ন্যাশনাল ইনস্ট্রুমেন্টস লিমিটেড ক্যাম্পাসের ভিড়পূর্ণ এলাকা যেমন— ক্যান্টিন, হোস্টেল, অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনের আশপাশে কুকুর বা বিড়ালকে কোনো খাবার দেওয়া যাবে না। এমনকি ক্যাম্পাসের প্রবেশ ও বাহির পথ এবং প্রধান সড়কের ধারের এলাকাগুলিকেও ‘নো-ফিডিং জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, বাইরের ভবঘুরে কুকুরের প্রবেশ রুখতে ক্যাম্পাসের প্রবেশদ্বারগুলিতে বিশেষ জাল লাগানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
স্টাফ কোয়ার্টার নিয়ে কড়া পদক্ষেপ
সংকটের গভীরতা আরও বাড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংক্রান্ত কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। আট সদস্যের কমিটির রিপোর্টে জানা গেছে, কিছু আবাসিক কোয়ার্টারকে নিয়মবহির্ভূতভাবে পথকুকুরদের স্থায়ী আশ্রয়স্থল বা কুকুরশালা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। এমনকি এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে বরাদ্দকৃত কোয়ার্টারে নিজে না থেকে শুধু কুকুর রাখার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীদের কোয়ার্টারে পোষ্য বা অন্যান্য প্রাণী রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। বিতর্কিত কোয়ার্টারটি পুনরুদ্ধার করে আবাসনহীন শিক্ষকের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
দেশজুড়ে কুকুরের কামড় এবং জলাতঙ্কের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক উদ্বেগের পরই যাদবপুর কর্তৃপক্ষ এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করল। তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশ স্বস্তি প্রকাশ করছেন, অন্যদিকে পশুপ্রেমী পড়ুয়া ও আবাসিকদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে অবশ্য ক্যাম্পাসের সব কুকুরকে ধরে দ্রুত টিকাকরণ ও বন্ধ্যাকরণের ব্যবস্থা করার আশ্বাসও দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এক ঝলকে
- যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্যাম্পাসের জনাকীর্ণ এলাকায় পথকুকুর ও বিড়ালকে খাবার দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি।
- শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীদের আবাসিক কোয়ার্টারকে প্রাণীদের স্থায়ী আশ্রয়স্থল বা কুকুরশালা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
- বহিরাগত কুকুরের প্রবেশ রুখতে ক্যাম্পাসের গেটে জাল লাগানোর এবং আবাসিক কুকুরদের টিকাকরণ ও বন্ধ্যাকরণের সিদ্ধান্ত।
- ক্যাম্পাসে ধারাবাহিক কুকুরের কামড়ের ঘটনা এবং জলাতঙ্ক নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকার পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ।
