যাদবপুরে লাল আবির! এসএফআই-এর বিরাট জয়, উধাও এবিভিপি-তৃণমূল

বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ঠিক আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে (আইসিসি) অভাবনীয় সাফল্য পেল বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই। গত ২১ ও ২৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে আর্টস বিভাগের ইউজি এবং পিজি—উভয় ক্ষেত্রেই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে তারা। অন্যদিকে, বিজ্ঞান বিভাগে ডব্লিউটিআই এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ডিএসএফ জয়লাভ করলেও প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছে বামেরা।
তৃণমূল ও এবিভিপির ভরাডুবি
এই নির্বাচনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো শাসকদল ও প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের ছাত্র সংগঠনগুলোর শোচনীয় পরাজয়। তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (টিএমসিপি) এবং এবিভিপি নির্বাচনী ময়দানে কার্যত কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। গত নির্বাচনে এবিভিপির উত্থান নজরকাড়া হলেও এবার তাদের ভোটব্যাংক তলানিতে এসে ঠেকেছে। এর বিপরীতে বামেদের ভোট বৃদ্ধি এবং এসএফআই-এর এই জয় ক্যাম্পাসের রাজনীতিতে বামপন্থার পুনরুত্থান হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক গুরুত্ব ও প্রভাব
যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটের মাত্র দুদিন আগে এই ফলাফল রাজ্যের মূলধারার রাজনীতিতে বাড়তি অক্সিজেন জোগাচ্ছে। ছাত্র সংসদের এই জয় সাধারণ ভোটারদের ওপর মানসিক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ কলকাতার শিক্ষিত ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে বামেদের প্রতি আস্থা বৃদ্ধির সংকেত হিসেবে এই ‘লাল ঝড়’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাংগঠনিক শক্তি ও ছাত্র আন্দোলনের ইস্যুগুলো সঠিকভাবে তুলে ধরাই বামেদের এই সাফল্যের প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রভোটে আর্টস বিভাগে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে এসএফআই।
- বিজ্ঞান বিভাগে ডব্লিউটিআই এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিএসএফ জয়ী হয়েছে।
- নির্বাচনে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ ও এবিভিপির ফল অত্যন্ত হতাশাজনক।
- বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই জয় বামেদের রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।
