যাদবপুরে হকার উচ্ছেদ ঘিরে ধুন্ধুমার, শর্তসাপেক্ষে জামিন পেলেন সৃজনরা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
যাদবপুর স্টেশন চত্বরে রেলের আচমকা হকার উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল। রবিবার গভীর রাতে বুলডোজ়ার দিয়ে একাধিক অস্থায়ী দোকান ও বেআইনি নির্মাণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এই অভিযানের তীব্র প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন সিপিএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য-সহ পাঁচ জন। তবে সোমবার আলিপুর পুলিশ কোর্ট তাঁদের শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করেছে।
উচ্ছেদের কারণ ও আইনি জটিলতা
স্টেশন চত্বর জবরদখল মুক্ত করতেই রেল এই উচ্ছেদ অভিযান চালায় বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। তবে বাম ও কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, পুনর্বাসন ছাড়া হকারদের উচ্ছেদ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সৃজন ভট্টাচার্যের অভিযোগ, ১৯৮৮ সালের আদালতের একটি রায় অনুযায়ী পুনর্বাসন বা কমার্শিয়াল প্লট না দিয়ে এই উচ্ছেদ সম্ভব নয়। ওই রায়ের প্রতিলিপি জমা দেওয়ার জন্য রেলের সঙ্গে তাঁদের আগেই আলোচনা হয়েছিল। আগামী ৮ জুন আদালত খোলার পর ২১ দিনের সময়সীমা চেয়েছিল বামেরা। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেই আচমকা গভীর রাতে বুলডোজ়ার নিয়ে অভিযান চালায় প্রশাসন। উচ্ছেদ রুখতে গেলে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি বাধে এবং পুলিশের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় নাট্যকর্মী জয়রাজ ভট্টাচার্য-সহ বেশ কয়েকজন জখম হন।
আদালতের নির্দেশ ও সম্ভাব্য প্রভাব
সোমবার ধৃতদের আদালতে তোলা হলে বিচারক এক হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে তাঁদের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন। তবে আদালতের তরফে কড়া শর্ত দেওয়া হয়েছে যে, তদন্তের সমস্ত প্রক্রিয়ায় অভিযুক্তদের পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। আগামী ৩ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। এই ঘটনার জেরে যাদবপুর স্টেশন চত্বরে হকারদের রুটিরুজি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, বিরোধী দলগুলির এই সম্মিলিত প্রতিবাদ এবং পুলিশের ধরপাকড়ের ঘটনা আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে হকার উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন ইস্যুকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তাপ ছড়াতে পারে বলে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা।
