যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংঘর্ষের পর ‘আজাদি’ স্লোগান, মুখ খুললেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত – এবেলা

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংঘর্ষের পর ‘আজাদি’ স্লোগান, মুখ খুললেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গত কয়েক দিনের ছাত্র সংঘর্ষের জের অব্যাহত শুক্রবারও। বৃহস্পতিবার ৪ নম্বর গেটে নন্দলাল বসুর তৈরি ঐতিহ্যবাহী প্রতীকী কাঠামোর ক্ষতির প্রতিবাদে এবং ‘গেরুয়া সন্ত্রাসে’র বিরুদ্ধে শুক্রবার ক্যাম্পাসে যৌথ প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেয় বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি। তবে এই জমায়েতকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, প্রতিবাদ সভায় বহু বহিরাগত ব্যক্তি প্রবেশ করে ক্যাম্পাসের পরিবেশ ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করেছে। সভা চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ থেকে ‘আজাদি’ স্লোগান দেওয়া হয় এবং বিক্ষোভকারীদের হাতে বিতর্কিত প্ল্যাকার্ড ও প্যাম্পলেট দেখা যায়। শিক্ষাঙ্গনে এমন রাজনৈতিক ও উগ্র স্লোগানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একাংশ। এই ঘটনায় যাদবপুর ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (JUTA) স্পষ্টত দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একাংশের মতে, বহিরাগতদের উপস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করছে। তবে অপর পক্ষের দাবি, ঐতিহ্য রক্ষার স্বার্থে যে কোনও প্রতিবাদকে তারা নীতিগতভাবে সমর্থন করেন।

সংঘাতের সূচনা ঘটেছিল গত বুধবার রাতে ফেটসুর (FETSU) সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে। বামপন্থীদের দাবি, বৈঠকে এবিভিপি সদস্যরা ঢুকে হামলা চালায়। অন্যদিকে এবিভিপির পাল্টা অভিযোগ, সভার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তাদের মারধর করা হয়। সেই সংঘর্ষের পর বৃহস্পতিবারের পাল্টা মিছিলে ৪ নম্বর গেট রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে এবং ঐতিহ্যবাহী প্রতীকটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শুক্রবার ‘আজাদি’ স্লোগান ওঠায় পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে।

এই ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি জানান, এ ধরনের ঘটনা ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করছে। রাজ্য তথা দেশের অন্যতম ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’ হিসেবে যাদবপুরের স্বীকৃতি ধরে রাখতে সব রাজনৈতিক দলকে উস্কানি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন তিনি।

ঘটনার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। সংঘর্ষের দীর্ঘ ৩৭ ঘণ্টা পর অভিযোগ দায়ের হলেও মধ্যরাতে বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানো বা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ না পাওয়ার বিষয়টি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন ও ক্যাম্পাসের বাইরে পুলিশ আউটপোস্ট বসানোর কথা ভাবছে কর্তৃপক্ষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *