যুদ্ধক্ষেত্রে বিপ্লব আনবে ‘দিব্যাস্ত্র Mk-1’, ভারতের এই শক্তিশালী ড্রোনের বিশেষত্ব কী? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারতের নতুন ‘আকাশযোদ্ধা’ প্রস্তুত, সফলভাবে নিজের শক্তি প্রমাণ করল দিব্যাস্ত্র এমকে-১
ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। যোধপুরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি কৌশলগত লোইটারিং মিউনিশন প্ল্যাটফর্ম ‘দিব্যাস্ত্র এমকে-১’-এর সফল প্রদর্শনী সম্পন্ন হয়েছে। হোভারিট (Hoverit) দ্বারা নির্মিত এই শক্তিশালী ড্রোন সিস্টেমটি পরীক্ষার প্রতিটি ধাপে তার লক্ষ্যভেদী দক্ষতা ও কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে।
যুদ্ধক্ষেত্রে অভাবনীয় গতিশীলতা
প্রদর্শনী চলাকালীন একটি ভ্রাম্যমাণ লঞ্চার থেকে বারবার সফলভাবে দিব্যাস্ত্র এমকে-১ উৎক্ষেপণ করা হয়। এই পরীক্ষাটি যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনটির দ্রুত মোতায়েন, চলাচলের গতি এবং অপারেশনাল প্রস্তুতির দিকটি নিশ্চিত করেছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, এই মহড়ায় ড্রোনটি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি এবং রেকি মিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোতে নিখুঁত দক্ষতা দেখিয়েছে। প্রকৃত যুদ্ধ পরিস্থিতির মতো জটিল পরিবেশে এটি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
দেশীয় প্রযুক্তির নতুন মাইলফলক
দিব্যাস্ত্র এমকে-১ একটি অত্যন্ত উন্নত মানের কৌশলগত ইউএভি (UAV), যা মূলত গোয়েন্দাগিরি, নজরদারি এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। এর বিশেষ কিছু প্রযুক্তিগত দিক হলো:
- দীর্ঘ পরিসর: এই ড্রোনটি ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত অপারেশনাল সক্ষমতা সম্পন্ন।
- উড্ডয়ন ক্ষমতা: এটি বিরতিহীনভাবে টানা ৫ ঘণ্টা আকাশে উড়তে সক্ষম।
- উন্নত সেন্সর: এতে ইলেকট্রো-অপটিক্যাল ও ইনফ্রারেড সেন্সর, কমিউনিকেশন রিলে সিস্টেম এবং অভিযানের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ওয়ারহেড বহন করার সুবিধা রয়েছে।
দিব্যাস্ত্র এমকে-১-এর এই সফল পরীক্ষা ভারতের ‘আত্মনির্ভর’ প্রতিরক্ষা নীতির পথে এক বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারত এখন সমরাস্ত্রের জন্য বিদেশ নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব প্রযুক্তিতে বিশ্বের বুকে শক্তিশালী অবস্থান তৈরির দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণ পরিকল্পনায় ড্রোন প্রযুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম। সীমান্ত নজরদারি থেকে শুরু করে নির্ভুল আঘাত (Precision Strike) এবং লজিস্টিক সাপোর্টের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো একটি ‘ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার’ হিসেবে কাজ করবে।
