যুদ্ধের আশঙ্কায় আকাশসীমার সুরক্ষায় নয়া কবচ! দেশের ২৪৪ জেলায় বসছে অত্যাধুনিক বিমান হানা সতর্কবার্তা কেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদন: ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে দেশের আকাশসীমা ও নাগরিক সুরক্ষায় বড়সড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। শত্রু দেশের ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র বা যেকোনো ধরনের আকাশপথে হানা মোকাবিলায় ভারতের ২৪৪টি সংবেদনশীল জেলায় বসানো হচ্ছে অত্যাধুনিক ‘এয়ার-রেড ওয়ার্নিং সিস্টেম’ বা বিমান হানা সতর্কবার্তা কেন্দ্র।
কেন এই উদ্যোগ?
২০২৫ সালে পরিচালিত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মূল্যায়ন থেকে নীতিনির্ধারকরা বুঝতে পারেন যে, দেশের বর্তমান পুরনো সাইরেন এবং সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে ড্রোনের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার এবং নতুন নতুন আকাশপথের হুমকির কথা মাথায় রেখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এই আধুনিক ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কীভাবে কাজ করবে এই নতুন ব্যবস্থা?
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পুরো দায়িত্বে রয়েছেন ফায়ার সার্ভিস, সিভিল ডিফেন্স এবং হোম গার্ডের ডিরেক্টর জেনারেল। এই কাজের জন্য ভারতীয় বিমান বাহিনীর অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগানো হচ্ছে, যাদের এয়ার ডিফেন্স অপারেশন, রাডার সিস্টেম এবং সতর্কীকরণ পদ্ধতিতে বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। প্রকল্পের গুণমান বজায় রাখতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা উইং কমান্ডার বা তার উপরে রাখা হয়েছে।
সুরক্ষাবলয়ের পরিধি:
- সীমান্তবর্তী জেলা: সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে এই শক্তিশালী নেটওয়ার্ক স্থাপনের পাশাপাশি সিভিল ডিফেন্স স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ পরিকাঠামোকেও ঢেলে সাজানো হচ্ছে।
- রাজধানীর সুরক্ষা: সীমান্তবর্তী অঞ্চলের পাশাপাশি রাজধানী দিল্লির আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতেও দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বিশেষ এয়ার ডিফেন্স অস্ত্রব্যবস্থা মোতায়েন করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ভারতের আকাশসীমা ও নাগরিক সুরক্ষায় এক নজিরবিহীন কবচ তৈরি করতে চলেছে প্রশাসন। এই পদক্ষেপ দেশের সুরক্ষাবলয়কে আরও সুদৃঢ় করবে বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
