যুদ্ধের দামামায় রক্তস্নাত দালাল স্ট্রিট, এক ধাক্কায় উধাও লগ্নিকারীদের ৪ লক্ষ কোটি টাকা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সপ্তাহের শুরুতেই ভয়াবহ ধসের মুখে পড়ল দেশের শেয়ার বাজার। পশ্চিম এশিয়ার নতুন ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম এবং বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিবিমুখ মনোভাবের জেরে সোমবার হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে দালাল স্ট্রিটের সূচক। বাজার খোলামাত্রই বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের বেঞ্চমার্ক ইনডেক্স সেনসেক্স ৮২১ পয়েন্ট বা ১.১১ শতাংশ পড়ে ৭৩,৪২১ পয়েন্টে নেমে যায়। অন্যদিকে, ১.১৪ শতাংশ পতনের জেরে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক নিফটি৫০ নেমে যায় ২৩,১০০ পয়েন্টের নীচে।
বাজারের এই নজিরবিহীন পতনে চরম আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে লগ্নিকারীদের মধ্যে। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে বিএসই-তে তালিকাভুক্ত সমস্ত কো ম্পা নির মোট বাজার মূলধন ৪৬১.১০ লক্ষ কোটি টাকা থেকে কমে ৪৫৯.৪৪ লক্ষ কোটি টাকায় এসে ঠেকেছে। ফলস্বরূপ, এক ধাক্কাতেই বিনিয়োগকারীদের কষ্টার্জিত মূলধন থেকে ৪.৪২ লক্ষ কোটি টাকা উধাও হয়ে গিয়েছে। সেনসেক্সের শীর্ষ ৩০টি স্টকের অধিকাংশেরই গ্রাফ ছিল নিম্নমুখী। মিড ক্যাপ ও স্মল ক্যাপ— দুই সূচকেই বড় পতন দেখা গেলেও স্মল ক্যাপের ক্ষতির পরিমাণ ছিল সবচেয়ে বেশি।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও তেলের বাজারে আগুন
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আকস্মিক ধসের প্রধান কারণ ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে নতুন করে তৈরি হওয়া তীব্র উত্তেজনা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বাজতেই আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেলে ৯৬ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি, ডব্লুটিআই ক্রুড তেলের দামও ব্যারেল প্রতি ৯৪ ডলারের গণ্ডি পার করেছে। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার অর্থ হলো হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক টানাপোড়েন বৃদ্ধি পাওয়া। এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ অবরুদ্ধ হলে বিশ্ববাজারে তেল ও এলপিজি সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শেয়ার বাজারে।
বিনিয়োগের ধারা বদল ও বিশ্ব বাজারে মন্দা
তীব্র বিক্রির চাপের মুখে বিনিয়োগকারীরা এখন ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র থেকে টাকা তুলে নিয়ে নিরাপদ খাতে বিনিয়োগ করতে শুরু করেছেন। এর ফলে অটো, মেটাল, ফিনান্স এবং রিয়েল এস্টেটের মতো সংবেদনশীল খাতগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উইপ্রো, হিন্দালকো, ইন্ডিগো এবং টাটা মোটরস ডিভিআর-এর মতো প্রধান স্টকগুলিতে ২ থেকে ৩ শতাংশ পতন দেখা গিয়েছে। বাজাজ ফিনান্সের দরও কমেছে ২ শতাংশের বেশি। তবে এই কঠিন পরিস্থিতিতেও ফার্মাসিউটিক্যাল এবং আইটি খাতের নির্বাচিত কিছু রক্ষণাত্মক স্টকে সামান্য ক্রয় লক্ষ্য করা গিয়েছে, যার মধ্যে সান ফার্মা, টেক মাহিন্দ্রা এবং ডঃ রেড্ডি’স অন্যতম।
ভারতীয় বাজারের এই বিপর্যয় কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। জাপানের নিক্কেই, দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং-সহ একাধিক এশীয় সূচক সোমবার বড় পতনের মুখোমুখি হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটের দুর্বলতা এবং সামগ্রিক বিশ্ব বাজারের এই নেতিবাচক ঝড়ই শেষ পর্যন্ত ভারতীয় বাজারকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে আগামী দিনে বাজার আরও অস্থির হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
