যোগী আর হিমন্তর পাশেই এবার শুভেন্দু, পূর্ব ভারতে নতুন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর খুঁজছে দিল্লি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
উত্তর ভারতে যোগী আদিত্যনাথ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা—বিজেপির এই দুই চাণক্যের সাফল্যের পর এবার পূর্ব ভারতে গেরুয়া রাজনীতির নতুন ‘পোস্টার বয়’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর থেকেই দলের অভ্যন্তরে এই রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্ত ঘাঁটি ভবানীপুরে শুভেন্দুর জয় এবং নন্দীগ্রামে পুরনো আধিপত্য বজায় রাখার ঘটনাটিকে দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব স্রেফ নির্বাচনী সাফল্য হিসেবে দেখছে না, বরং এটিকে পূর্ব ভারতের একটি বড় রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করছে।
নেপথ্যের কারণ ও দিল্লির গভীর অঙ্ক
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে এমন একজন আঞ্চলিক মুখ খুঁজছিল, যিনি বাংলার রাজনৈতিক আবেগ, হিন্দুত্বের মেরুকরণ, সংগঠনের বিস্তার এবং কেন্দ্রের উন্নয়নমূলক কর্মসূচি—এই চারটি স্তম্ভকে একসঙ্গে সামলাতে পারবেন। ২০২১ সালে বিরোধী দলনেতা হিসেবে লড়াই শুরু করে ২০২৬ সালে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসা শুভেন্দু অধিকারীই এখন দলের কাছে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মুখ। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই বিরোধী শিবিরে ভাঙনের ইঙ্গিত মিলেছে এবং একাধিক বিরোধী নেতা ও জনপ্রতিনিধি শুভেন্দুর প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত হতে শুরু করেছেন, যা বিজেপির আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
শুভেন্দুকে সামনে আনার পেছনে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সুদূরপ্রসারী ভূ-রাজনৈতিক পরিকল্পনা রয়েছে। উত্তর ভারতের যোগী মডেল বা উত্তর-পূর্বের হিমন্ত মডেলের মতো করেই বাংলায় শুভেন্দুকে প্রতিষ্ঠা করতে চায় গেরুয়া শিবির। কারণ, বাংলার রাজনৈতিক প্রভাব শুধু এই রাজ্যের ভূখণ্ডেই সীমাবদ্ধ নয়, এর বিস্তৃতি রয়েছে ওড়িশা, আসাম, ত্রিপুরা, ঝাড়খণ্ড এবং বিহারের একাংশেও।
জাতীয় রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
বিজেপির শীর্ষ সূত্র জানাচ্ছে, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাকে এখন থেকেই অন্যতম প্রধান যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন মোদি-শাহ জুটি। সেই লক্ষ্যেই সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ-বিরোধী অবস্থান, কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক পুনর্গঠনের মতো বিষয়গুলোকে সামনে রেখে শুভেন্দুর ভাবমূর্তি গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই বঙ্গে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ চালু করা এবং সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের জন্য জমি হস্তান্তরের মতো সিদ্ধান্তগুলোকে বড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। এর পাশাপাশি, ইদের দিন মায়াপুরের ইসকন মন্দিরে শুভেন্দুর গো-সেবার চিত্র প্রচার করে বিজেপির চিরপরিচিত হিন্দুত্বের লাইনকেও জোরালো রাখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, আগামী লোকসভা ভোটের আগে বিজেপির অন্দরমহলে একটি নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। উত্তরে যোগী আদিত্যনাথ, উত্তর-পূর্বে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং পূর্ব ভারতে শুভেন্দু অধিকারী—এই ‘ত্রয়ী’-কে সামনে রেখেই আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে চাইছে গেরুয়া শিবির।
