যৌবনেই নিঃশব্দ ঘাতক ‘মাস্কড হাইপারটেনশন’! ১৮ পেরোলেই কেন সতর্ক হবেন? – এবেলা

যৌবনেই নিঃশব্দ ঘাতক ‘মাস্কড হাইপারটেনশন’! ১৮ পেরোলেই কেন সতর্ক হবেন? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মাথা ঘোরা বা হঠাৎ রেগে যাওয়া নয়, সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবনযাপনের আড়ালেও নিঃশব্দে শরীরে বাসা বাঁধতে পারে উচ্চ রক্তচাপ বা ‘মাস্কড হাইপারটেনশন’। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, ভারতের প্রায় ১২ শতাংশ তরুণ এই নীরব ঘাতকের শিকার, যার ফলে অকালেই বাড়ছে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি। শুরুতে এর কোনো স্পষ্ট লক্ষণ না থাকায় অনেকেই একে নিছক ক্লান্তি বা স্ট্রেস ভেবে এড়িয়ে যান।

এখানে মূল খবরটিকে সহজ ও আকর্ষণীয়ভাবে গুছিয়ে লেখা হলো:

অবহেলা করবেন না এই ৫টি লক্ষণ

শুরুতে এই রোগের প্রকোপ বোঝা না গেলেও শরীর কিছু নীরব সংকেত দেয়:

  • রাতে ঘন ঘন প্রস্রাব: উচ্চ রক্তচাপ কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলে, যার ফলে রাতে বারবার প্রস্রাব পায়।
  • কানে ‘ভোঁ ভোঁ’ শব্দ: রক্তপ্রবাহের পরিবর্তনের কারণে উত্তেজনার বশে কানে অদ্ভুত শব্দ হতে পারে।
  • ঘাড় ও কাঁধে টান: পেশিতে টান বা ভুল ভঙ্গিতে শোয়ার সমস্যা ভেবে আমরা অনেক সময় এই ব্যথাকে অবহেলা করি, যা আসলে উচ্চ রক্তচাপের ইঙ্গিত।
  • অনিদ্রা বা ঘুমের ব্যাঘাত: রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া বা অস্বস্তির কারণে ঘুম না আসাও হাইপারটেনশনের একটি লক্ষণ।
  • চোখে লাল দাগ: কোনো ব্যথা বা আঘাত ছাড়াই চোখে লাল দাগ দেখা দিলে তা উচ্চ রক্তচাপের কারণে রক্তনালী ফেটে যাওয়ার সংকেত হতে পারে।

কেন বাড়ছে এই প্রকোপ?

প্রায় ৮৬০০ জন ভারতীয় রোগীর ওপর করা একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে উচ্চ রক্তচাপের প্রধান ৪টি কারণ:

  • অতিরিক্ত লবণ (৩৯%): প্যাকেটজাত স্ন্যাক্স, ফাস্টফুড এবং রোজকার রান্নায় অতিরিক্ত নুন খাওয়া।
  • স্থূলতা বা ওজন বৃদ্ধি (৩২.৯%): শরীরে অতিরিক্ত মেদ বা চর্বি জমা।
  • অলস জীবনযাপন (২৮.৬%): শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়ামের অভাব এবং বসে থাকার প্রবণতা।
  • মানসিক চাপ (২০.৭%): দৈনন্দিন জীবনের অতিরিক্ত স্ট্রেস, উদ্বেগ ও উত্তেজনা।

মাস্কড হাইপারটেনশন ধরতে ‘রুল অফ থ্রি’

চিকিৎসকদের মতে, শুধু একবার প্রেসার মাপলেই এই রোগ ধরা নাও পড়তে পারে। তাই তিন দিনের নিয়ম বা ‘রুল অফ থ্রি’ মেনে চলা উচিত। বাড়িতে টানা তিনদিন ঠিক একই সময়ে রক্তচাপ মাপুন। যদি তিন দিনের গড় ১৩৫/৮৫ mmHg-এর বেশি হয়, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে ২৪ ঘণ্টার ‘অ্যাম্বুলেটরি ব্লাড প্রেশার মনিটরিং’-এর সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

বয়স অনুযায়ী কখন রক্তচাপ মাপবেন?

  • ১৮ বছর বয়সের পর: প্রত্যেকেরই নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা শুরু করা উচিত।
  • স্বাভাবিক রক্তচাপ (<১২০/৮০ mmHg): অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা না থাকলে বছরে অন্তত ১ বার চেকআপ করুন।
  • ঝুঁকিপূর্ণ মাত্রা (১২০-১৩৯ / ৮০-৮৯ mmHg): রক্তচাপ এই মাত্রায় থাকলে প্রতি ৩ থেকে ৬ মাস অন্তর পরীক্ষা করানো উচিত।
  • ৪০ বছর বয়সের পর: রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকলেও প্রতি ৬-১২ মাস অন্তর নিয়ম করে পরীক্ষা করতে হবে।
  • বিশেষ সতর্কতা: ডায়াবেটিস, দীর্ঘস্থায়ী কিডনির সমস্যা, স্থূলতা, হৃদরোগ থাকলে বা গর্ভবতী মহিলাদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত প্রেশার মাপা বাধ্যতামূলক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *