রণসাজে ইরান: মোজতবা খামেনেইর বিশেষ নির্দেশ, ইজরায়েল-আমেরিকাকে চরম হুঁশিয়ারি আইআরজিসি-র – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মজতবা খামেনেইর পক্ষ থেকে দেশটির সামরিক বাহিনীকে নতুন কৌশলগত নির্দেশ দেওয়ার পর এই উত্তেজনা এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। সম্প্রতি শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই নির্দেশনা জারি করা হয়, যা ওই অঞ্চলে ইরানের কঠোর অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনীর ইউনিফাইড কমান্ডের প্রধান আলী আবদোল্লাহি মজতবা খামেনেইর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর সাম্প্রতিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই বৈঠকে সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। খামেনেইর নতুন নির্দেশে শত্রুপক্ষের যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক এবং ‘কঠোর’ জবাব দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
আইআরজিসি-র হুঁশিয়ারি ও সামরিক তৎপরতা
ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছে, আমেরিকা বা ইসরায়েল সমর্থিত কোনো শক্তি যদি ইরানের স্বার্থে আঘাত করে, তবে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ও ওমান উপসাগরে ইরানি তেল ট্যাঙ্কার বা বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
নতুন এই নির্দেশনায় ইরানি সেনাবাহিনীকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে:
- সকল সামরিক ইউনিটকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা।
- শত্রুপক্ষের চাপের মুখে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখা।
- হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে নজরদারি জোরদার করা।
- যেকোনো হামলার বিপরীতে সমন্বিত কমান্ড সিস্টেমের মাধ্যমে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ চালানো।
আঞ্চলিক অস্থিরতা ও প্রভাব
এই উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি দক্ষিণ কোরীয় মালবাহী জাহাজ অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যদিও ক্রু সদস্যরা নিরাপদ আছেন, তবে এ ধরনের ঘটনা বিশ্বজুড়ে শিপিং কো ম্পা নি ও বীমা সংস্থাগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, ইরান যেভাবে সামরিক তৎপরতা ও সতর্কবার্তা বৃদ্ধি করছে, তাতে নিকট ভবিষ্যতে ওই অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
যদিও মজতবা খামেনেইর শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা জল্পনা রয়েছে, তবে সাম্প্রতিক এই সামরিক সিদ্ধান্তগুলো প্রমাণ করে যে ইরানের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তিনি এখনো অত্যন্ত সক্রিয়। এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা থাকলেও দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার ঘাটতি থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এখন চরম ঝুঁকির মুখে।
