রাঘব চাড্ডা কি সাংসদ হিসেবে বহাল থাকবেন? জেনে নিন দলত্যাগ বিরোধী আইন কী বলছে – এবেলা

রাঘব চাড্ডা কি সাংসদ হিসেবে বহাল থাকবেন? জেনে নিন দলত্যাগ বিরোধী আইন কী বলছে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আম আদমি পার্টির প্রভাবশালী নেতা রাঘব চাড্ডা, সন্দীপ পাঠক ও অশোক মিত্তালসহ একাধিক সাংসদের বিজেপিতে যোগদানের সিদ্ধান্তে জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই দলবদল কেবল রাজনৈতিক সমীকরণ নয়, বরং সাংবিধানিক জটিলতাকেও উসকে দিয়েছে। বিশেষ করে রাজ্যসভায় তাদের সদস্যপদ বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে বর্তমানে আইনি মহলে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। ভারতের সংবিধানের দশম তফসিলে বর্ণিত দলত্যাগ বিরোধী আইন এক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

দুই-তৃতীয়াংশের কঠিন সমীকরণ

১৯৮৫ সালের ৫২তম সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো নির্বাচিত সাংসদ স্বেচ্ছায় দলত্যাগ করলে বা অন্য দলে যোগ দিলে তিনি অযোগ্য ঘোষিত হন। তবে এই আইন থেকে রেহাই পাওয়ার একটি নির্দিষ্ট পথ রয়েছে, যাকে ‘একত্রীকরণ’ বলা হয়। যদি কোনো রাজনৈতিক দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য একসাথে অন্য দলে যোগ দেন, তবেই তাদের সদস্যপদ সুরক্ষিত থাকে। আম আদমি পার্টির রাজ্যসভার মোট ১০ জন সাংসদের মধ্যে অন্তত ৭ জনের সমর্থন না থাকলে রাঘব চাড্ডাসহ অন্যদের সাংসদ পদ খারিজ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত ও ভবিষ্যৎ আইনি লড়াই

দলত্যাগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান অর্থাৎ উপরাষ্ট্রপতির হাতে। অভিযোগ জমা পড়ার পর তিনি তদন্ত সাপেক্ষে অযোগ্যতার বিষয়ে আদেশ জারি করেন। যদিও এই সিদ্ধান্তকে পরবর্তীতে উচ্চ আদালত বা সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ থাকে। যদি কোনো সাংসদ অযোগ্য ঘোষিত হন, তবে সেই আসনটি শূন্য হয়ে যায় এবং সেখানে উপনির্বাচন আয়োজন করতে হয়। ফলে এই দলবদলের ফলে আপ-এর এই হেভিওয়েট নেতাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি সংখ্যাতত্ত্ব এবং আইনি ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করছে।

এক ঝলকে

  • আম আদমি পার্টির ১০ জন রাজ্যসভা সাংসদের মধ্যে অন্তত ৭ জন (দুই-তৃতীয়াংশ) একযোগে দলত্যাগ করলে আইনত সদস্যপদ রক্ষা পাবে।
  • স্বেচ্ছায় দলত্যাগ বা দলের হুইপ অমান্য করলে সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী সদস্যপদ বাতিলের বিধান রয়েছে।
  • রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তই এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়, তবে তা বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার অধীন।
  • অযোগ্য ঘোষিত হলে সংশ্লিষ্ট আসনটি শূন্য হবে এবং সাংসদদের পুনরায় উপনির্বাচনের মাধ্যমে জিতে আসতে হবে।
Admin
  • Admin

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *