রাজনীতির আড়ালে জঙ্গি জাল, পাকিস্তানের নয়া শয়তানি ফাঁস জম্মু-কাশ্মীরে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে অস্ত্র করে উপত্যকায় অশান্তি ছড়ানোর এক ভয়ঙ্কর চক্রান্তের হদিশ পেয়েছে দেশের গোয়েন্দা বাহিনী। পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (আইএসআই) এবার ভারতের জাতীয় স্তরের রাজনৈতিক দলগুলিতে নিজেদের চর তথা ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কারদের (ওজিডব্লিউ) অনুপ্রবেশ করানোর নীল নকশা তৈরি করেছে। সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের হাতে কয়েকজন সন্দেহভাজন গ্রেফতার হওয়ার পর এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ধৃতদের কাছ থেকে বিভিন্ন জাতীয় রাজনৈতিক দলের সদস্যপদ কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে, যা তারা নিজেদের সুরক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহার করছিল।
অনুপ্রবেশের ভয়ঙ্কর ছক
গোয়েন্দা সূত্রের খবর, পাকিস্তানের এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য হলো ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও নজরদারি এড়ানো। রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী বা নেতা হিসেবে পরিচয় তৈরি করতে পারলে নিরাপত্তা বাহিনীর সন্দেহ থেকে সহজেই বাঁচা সম্ভব। এই রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে বসেই উপত্যকায় নতুন করে জঙ্গি নিয়োগ, সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে অর্থ জোগানো এবং গোপনে অস্ত্র পাচারের মতো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে চালানোর পরিকল্পনা করেছিল আইএসআই। রাজনৈতিক ছত্রছায়াকে ব্যবহার করে কাউন্টার-টেরর সার্ভিল্যান্স ফাঁকি দেওয়াই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।
প্রভাব ও অতীতের পুনরাবৃত্তি
প্রাক্তন পুলিশ কর্তাদের মতে, এই কৌশল নতুন না হলেও বর্তমান সময়ে তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এর ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষে আসল অপরাধী বা সাহায্যকারীদের চিহ্নিত করা বেশ কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এর আগেও একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটেছে যেখানে রাজনৈতিক দলের পদের অপব্যবহার করে জঙ্গিরা নাশকতা চালিয়েছে। ২০২০ সালে জম্মুতে এক লস্কর জঙ্গির গ্রেফতারি এর বড় প্রমাণ, যে একটি নামী রাজনৈতিক দলের সংখ্যালঘু মোর্চার আইটি সেলের দায়িত্বে ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই তথ্য সামনে আসার পর দেশজুড়ে রাজনৈতিক দলগুলির সদস্যপদ যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার ওপর বাড়তি নজরদারির প্রয়োজনীয়তা দেখছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
