রাজনীতির ট্র্যাকে স্বপ্নভঙ্গ, রাজগঞ্জে হারের পর ক্ষোভ উগরে দিলেন স্বপ্না বর্মন

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। তৃণমূল কংগ্রেসের মহাপতনের এই আবহে নজরকাড়া লড়াই ছিল উত্তরবঙ্গের রাজগঞ্জ বিধানসভা আসনটিতে। তৃণমূলের তুরুপের তাস হিসেবে রাজনীতির ময়দানে পা রাখা এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মন শেষ পর্যন্ত জয়ের মুখ দেখতে পেলেন না। বিজেপির দীনেশ সরকারের কাছে ২১,৪৭৭ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়ে চরম হতাশায় গণনাকেন্দ্র ছাড়লেন এই তারকা অ্যাথলিট।
ভোটের ময়দানে চরম অস্বস্তি ও হার
নির্বাচনের ঠিক আগে ব্রাত্য বসু ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে তৃণমূলে যোগ দিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন স্বপ্না। রেলের চাকরি থেকে ছাড়পত্র পাওয়া নিয়ে জটিলতা এবং গত মার্চ মাসে পিতৃবিয়োগের শোক সামলে তিনি নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছিলেন। তবে দলের অন্দরে তাঁকে নিয়ে শুরু থেকেই অসন্তোষ ছিল। বিদায়ী বিধায়ক খগেশ্বর রায়ের উষ্মা ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশের অসহযোগিতা ভোটের ফলে প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গণনাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় স্বপ্না সংবাদমাধ্যমের কাছে নিজের পরাজয় মেনে নিলেও পরাজয়ের ব্যবধান নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন।
ভবিষ্যৎ ও রাজনৈতিক সমীকরণ
রাজগঞ্জে তৃণমূলের এই হার কেবল স্বপ্নার ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়, বরং উত্তরবঙ্গে ঘাসফুল শিবিরের সাংগঠনিক দুর্বলতাকেই প্রকট করেছে। একদিকে পিতৃবিয়োগের ব্যক্তিগত শোক, অন্যদিকে রাজনীতির প্রথম ধাপেই বড় ব্যবধানে হার— সব মিলিয়ে স্বপ্না বর্মনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে। ‘বাংলার মেয়ে’ ইমেজ কাজে লাগিয়ে বৈতরণী পার হতে চাওয়া শাসক দল যেমন ধাক্কা খেল, তেমনি মাঠের ট্র্যাকে সোনা জেতা স্বপ্নার জন্য রাজনীতির ট্র্যাক যে বেশ পিচ্ছিল, তা এই ফলাফলে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে থাকবেন নাকি আবারও ট্র্যাকে ফিরবেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।
