রাজনৈতিক পালাবদল হতেই পর্দাফাঁস, কোচবিহার ও দুর্গাপুরে দুর্নীতির অভিযোগে ধৃত দুই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা – এবেলা

রাজনৈতিক পালাবদল হতেই পর্দাফাঁস, কোচবিহার ও দুর্গাপুরে দুর্নীতির অভিযোগে ধৃত দুই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতা বদলের পরই প্রশাসন জুড়ে শুরু হয়েছে শুদ্ধিকরণ অভিযান। মুখ্যমন্ত্রীর ‘কোনও অপকর্ম বরদাস্ত নয়’ বার্তার পর থেকেই জেলায় জেলায় পুলিশের বিশেষ তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তৃণমূল সরকারের দীর্ঘ শাসনকালে গড়ে ওঠা দুর্নীতির সাম্রাজ্য ভাঙতে এবার সরাসরি প্রভাবশালীদের হাত দেওয়া শুরু করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার রাতে রাজ্যের পৃথক দুটি প্রান্ত থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন দুই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা।

জালিয়াতি ও তোলাবাজির জালে প্রভাবশালীরা

কোচবিহারের দিনহাটা পুরসভার বিল্ডিং প্ল্যান পাশ করানোর ক্ষেত্রে বড়সড় জালিয়াতির অভিযোগ সামনে এসেছে। এই কাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দিনহাটা পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহ ঘনিষ্ঠ নেতা গৌরীশংকর মাহেশ্বরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে একই মামলায় পুরকর্মী মৌমিতা ভট্টাচার্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পুলিশি তল্লাশির মুখে রবিবার রাতে গৌরীশংকর মাহেশ্বরী নিজেই থানায় আত্মসমর্পণ করলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অন্যদিকে, দুর্গাপুরের ফরিদপুর ব্লক তৃণমূল সভাপতি শতদ্বীপ ঘটককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে এলাকায় দিনের পর দিন সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে তোলাবাজি, উস্কানি এবং বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের হুমকি দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। রবিবার রাতে ফরিদপুর থানার পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। সোমবার তাঁকে আদালতে পেশ করার সময় উত্তেজিত আমজনতা ‘চোর চোর’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ দেখায়। এছাড়া আসানসোলে তোলাবাজির অভিযোগে মলয় ঘটক ঘনিষ্ঠ শ্রমিক নেতা রাজু আহোওয়ালিয়া এবং দাসপুরে গুন্ডামির অভিযোগে প্রাক্তন বিধায়কের ছেলে কুমারেশ ভুঁইয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কার্যকারণ ও সম্ভাব্য প্রশাসনিক প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা এই নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো এতদিন রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ধামাচাপা পড়েছিল। কিন্তু রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটতেই প্রশাসনের উপর থেকে রাজনৈতিক চাপ সরে গেছে এবং পুলিশ স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি মূলত পুলিশ প্রশাসনকে দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সবুজ সংকেত দিয়েছে।

এই গ্রেপ্তারির জেরে জেলা স্তরের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশাসনের প্রতি আস্থা ফিরবে, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট রাজ ও তোলাবাজি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে। তবে এই অভিযান কেবল শুরু, আগামী দিনে আরও অনেক রাঘববোয়াল পুলিশের জালে জড়াতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *