রাজ্যে চিকিৎসার মহাসড়ক, ৪ জেলায় নতুন সরকারি মেডিক্যাল কলেজ চালুর তোড়জোড় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের সরকারি চিকিৎসা পরিকাঠামো এবং চিকিৎসাক্ষেত্রের পঠনপাঠন আরও উন্নত করতে এক বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল স্বাস্থ্য দপ্তর। কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, উত্তর দিনাজপুর এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলায় নতুন সরকারি মেডিক্যাল কলেজ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ দিনাজপুর, আলিপুরদুয়ার ও পশ্চিম বর্ধমান জেলায় ১০০টি করে এমবিবিএস আসন-সহ তিনটি নতুন সরকারি মেডিক্যাল কলেজ তৈরির প্রাথমিক প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। জেলাগুলিতে উপযুক্ত জমি ও পরিকাঠামো চিহ্নিত করতে পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল সার্ভিসেস কর্পোরেশন লিমিটেডের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।
দ্রুত ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট তৈরির কাজ শুরু
স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রের খবর, প্রস্তাবিত নতুন মেডিক্যাল কলেজগুলোর জন্য ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট তৈরির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। জাতীয় মেডিক্যাল কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, নতুন কলেজ, টিচিং হাসপাতাল এবং হোস্টেল একই চত্বরে বা অনধিক ১০ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে দুটি পৃথক ক্যাম্পাসে গড়ে তোলা সম্ভব। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট টিচিং হাসপাতালে অন্তত ৪২০টি শয্যা এবং বছরজুড়ে ৮০ শতাংশ বেড অকুপেন্সি থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য কর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বর্তমান হাসপাতাল চত্বরে পর্যাপ্ত জমি না থাকলে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে সরকারি মালিকানাধীন প্রায় ২০ একর জমি চিহ্নিত করতে।
চিকিৎসা পরিষেবায় আমূল পরিবর্তনের সম্ভাবনা
এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের প্রান্তিক জেলাগুলিতে উন্নত ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ অনেকটাই সহজ হবে। একই সঙ্গে রাজ্যে সরকারি ক্ষেত্রে এমবিবিএস আসনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বহু কৃতি শিক্ষার্থী নিজের রাজ্যেই চিকিৎসার উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবেন। গ্রামীণ ও জেলা স্তরের স্বাস্থ্য পরিষেবার মান বাড়াতে রাজ্য সরকার আরও কিছু দূরদর্শী পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পাতিপুকুর টিবি হাসপাতালের অধিগ্রহণ, আইআইটি খড়গপুর ক্যাম্পাসের শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় হাসপাতালকে মেডিক্যাল কলেজে রূপান্তর, নতুন আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির প্রতিষ্ঠা এবং নতুন ২০০টি প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত। যা রাজ্যের সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
