রাজ্যে পুলিশের নজিরবিহীন কড়া দাওয়াই, হেলমেট থেকে গরু পাচার রুখতে জারি নতুন নির্দেশিকা

রাজ্যে পুলিশের নজিরবিহীন কড়া দাওয়াই, হেলমেট থেকে গরু পাচার রুখতে জারি নতুন নির্দেশিকা

পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও সুসংহত করতে এবং জননিরাপত্তা জোরদার করতে কঠোর একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য পুলিশ। এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) রাজ্যের সমস্ত পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার এবং রেল পুলিশ সুপারদের এই বিশেষ পাঁচ দফার গাইডলাইন পাঠিয়েছেন। মূলত ট্রাফিক আইন কার্যকর করা থেকে শুরু করে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন—সর্বত্রই জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করছে প্রশাসন।

ট্রাফিক নিরাপত্তা ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার

নতুন এই নির্দেশিকার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো ট্রাফিক ব্যবস্থার আমূল সংস্কার। এখন থেকে বাইক আরোহীদের জন্য হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং মোটর যান আইন অনুযায়ী কঠোর অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি আগামী ১৬ মে থেকে রাজ্যজুড়ে টানা দুই সপ্তাহ অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারে বিশেষ তল্লাশি অভিযান শুরু হতে চলেছে। তার আগে ১৫ মে-র মধ্যে প্রতিটি থানার মালখানায় থাকা অস্ত্রের সঠিক হিসাব নিশ্চিত করার জন্য আইসি ও ওসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাচার রোধ ও পুরনো মামলার পুনর্মূল্যায়ন

গরু পাচার এবং বেআইনি খনি কর্মকাণ্ড রুখতে পুলিশকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০১৪ সালের পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন প্রয়োগ করে অবৈধ গবাদি পশুর হাট ও কসাইখানা বন্ধের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, তবে বৈধ ব্যবসায়ীরা যাতে তোলাবাজির শিকার না হন সেদিকেও নজর রাখা হবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার যে মামলাগুলিতে ইতিপূর্বে ফাইনাল রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে গাফিলতি থাকলে পুনরায় মামলা চালু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রশাসন।

সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে থানা ও মহকুমা স্তরে নিয়মিত সমন্বয় বৈঠকের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান এবং অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই বহুমুখী সক্রিয়তা রাজ্যের নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *