রাজ্যে বড় পদক্ষেপ: বাড়তি শিক্ষক বদলি ও জাতীয় শিক্ষানীতি চালুর পথে স্কুলশিক্ষা দপ্তর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে আমূল সংস্কারের লক্ষ্যে একের পর এক বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল স্কুলশিক্ষা দপ্তর। স্বচ্ছ নিয়োগ থেকে শুরু করে শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন। সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ‘সারপ্লাস’ বা বাড়তি শিক্ষকদের বদলি এবং রাজ্যে ‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০’ (NEP 2020) কার্যকর করা।
শিক্ষক-ছাত্র অনুপাত নিয়ন্ত্রণে বদলির নির্দেশ
স্কুলগুলিতে পড়ুয়া-শিক্ষক অনুপাতের সামঞ্জস্য ফেরাতে প্রাথমিক স্তর থেকেই বাড়তি শিক্ষকদের অন্য স্কুলে বদলি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শিক্ষা দপ্তরের যুক্তি, ২০০৯ সালের শিক্ষার অধিকার আইন (RTE Act) অনুযায়ী প্রতি ৩০ জন পড়ুয়ার জন্য ১ জন শিক্ষক থাকা বাধ্যতামূলক। অনেক স্কুলেই প্রয়োজনের তুলনায় বাড়তি শিক্ষক রয়েছেন, আবার কোথাও শিক্ষকের অভাব। এই বদলির মাধ্যমে সেই ভারসাম্য ফেরানোই লক্ষ্য।
জাতীয় শিক্ষানীতি ও ‘উজ্জীবন চর্চা’
রাজ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ চালুর লক্ষ্যে জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য ‘উজ্জীবন চর্চা’ নামে একটি অনলাইন কর্মশালার আয়োজন করে স্কুলশিক্ষা দপ্তর। শনিবার এই কর্মশালায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী দীপক বর্মন জানান, নতুন এই শিক্ষানীতি পড়ুয়াদের শিক্ষাকে অনেক বেশি আনন্দময় ও গবেষণাধর্মী করে তুলবে। মুখস্থ বিদ্যার বদলে অনুসন্ধানমূলক এবং অভিজ্ঞতামূলক শিক্ষার ওপরই এখানে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়ন, যেমন—পরিচ্ছন্ন শৌচালয় ও ভেন্ডিং মেশিনের মতো সুবিধার ওপরও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
বিরোধী ও সংশ্লিষ্ট মহলের উদ্বেগ
সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় সরব হয়েছে বিরোধী শিক্ষক সংগঠনগুলি। তাদের অভিযোগ, পড়ুয়াশূন্য স্কুলগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করার বদলে সরকার স্কুল বন্ধের পথে হাঁটছে, যা সরকারি শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা কমিয়ে দেবে। বাড়তি শিক্ষকদের বদলির ফলে অনেক স্কুল স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। স্কুল বাঁচাতে ইতিমধ্যে বিজেপি শিক্ষক সেল মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হওয়ার পরিকল্পনা করেছে বলে খবর।
